নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে মিললো মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ‘ব্যথার দান’-এ মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পাওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

ডিউটি ডাক্তারের অনিয়মিত উপস্থিতি, ওষুধের সংকট, সামান্য সমস্যাতেই ময়মনসিংহে রেফার করা, সন্ধ্যার পর ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকা—সহ নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে আলোকিত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আসাদুল্লাহ আল গালিব তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে মেডিকেল স্টাফের কাছ থেকে হাতে-নাতে এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন ধরা পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসা কেন্দ্রের একটি কক্ষে আলমারির ভেতরে অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। সাংবাদিক ওষুধের নমুনা দেখতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ কয়েকটি ওষুধ বের করেন। এ সময় দেখা যায়, কিছু ইনজেকশনের মেয়াদ ১১ মাস আগে ২০২৫ সালের জুন মাসেই শেষ হয়ে গেছে, তবুও সেগুলো সচল ও ব্যবহার যোগ্য ওষুধের সঙ্গে রাখা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ‘ব্যথার দান’ চিকিৎসা কেন্দ্রের সেবার মান নিম্নমানের। প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ‘ব্যথার দান’ মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. হেলাল বলেন, আমি অসুস্থতার কারণে আজ অফিসে আসিনি। মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশনটি কিভাবে সেখানে এলো, তা খতিয়ে দেখা হবে। অনেক সময় মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেগুলো আলাদা করে সংরক্ষণ বা অপসারণের প্রক্রিয়ায় ত্রুটি হতে পারে।

১১ মাস আগে মেয়াদ শেষ হওয়া ইনজেকশন এখনো কেন অপসারণ করা হয়নি, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি রোববার অফিসে এসে বিষয়টি দেখব। তবে এটি ব্যবহার করা হয়নি, শুধু সংরক্ষণে ত্রুটি থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।