ডাকসু নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাকসুর বিক্ষোভ
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০৮ | অনলাইন সংস্করণ
রাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃবৃন্দ ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় রাকসু কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে সমাপ্ত হয়।
এ সময় তাদেরকে ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ বলেছেন’, ‘ঢাবিতে হামলা কেন, সালাহউদ্দিন জবাব দে’, ‘ডাকসুতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘দল গেছে যে পথে, লীগ যাবে সে পথে’, ‘আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ভাই আহত কেন, তারেক তুই জবাব দে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ‘শিক্ষা সন্ত্রাস, একসাথে চলে না’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এ সময় রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক সালমান সাব্বির বলেন, “আজকে আমরা দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত ডাকসু প্রতিনিধিদের উপর ছাত্রদল হামলা করেছে। আমরা রাকসুর পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমেদকে বলে দিতে চাই, আর যদি কোনো ক্যাম্পাসে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে না। আজকে সুপরিকল্পিতভাবে যে হামলা চালানো হয়েছে তার সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। এই হামলার সাথে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা বলেন, ছাত্রদল সরকার দল হওয়াতে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পায়ে পাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে গন্ডগোল করছে। চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে শুরু করে আজকে ঈশ্বরদীতে রামদা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আগে যে রামদা লীগ ছিল তা আজকে রামদা দল হয়ে গেছে। তারা নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করছে। আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীল পরিবেশ চাই। ছাত্রদলকে আহ্বান করবো, আপনাদের মনে যতই জ্বালা থাকুক শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেনে নেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি সারাদেশেকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দুই মাস হলো সরকার দায়িত্বে এসেছে। এই দুই মাসের মধ্যে জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সংকট দেখা যাচ্ছে। সরকারের অদূরদর্শিতার কারণে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রামে-গঞ্জে ১৪ ঘন্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। জ্বালানির অভাবে রাজশাহীতে তেল নিতে এসে একজন কৃষক হিটস্ট্রোকে মারা গেছে। সারা দেশে হামের চিকিৎসা না পেয়ে শিশুরা মারা যাচ্ছে।
এ সময় রাকসু'র সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “ডাকসু প্রতিনিধিদের উপর আজকে যে হামলা হয়েছে তা শুধু ডাকসু প্রতিনিধিদের উপরে নয়, ছাত্রদলের মাথা এমনভাবে খারাপ হয়ে গেছে এখন তারা কর্মচারী, দোকানদার এমনকি সাংবাদিকদের উপরও হামলা করা শুরু করেছে। আজকে ডাকসু নেতৃবৃন্দের ওপর হামলার প্রতিবাদে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। কিছুদিন যাবৎ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনাগুলো ঘটে গেছে সেগুলো বলতেও আমাদের লজ্জা হয়। একজন দোকানদারকে মাত্র ৫০ টাকার জন্য ছাত্রদল নেতার হামলা প্রমাণ করেছে শুধু রাবি ছাত্রদল নয়, পুরো ছাত্রদল আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “তারা একজন নিরস্ত্র শিক্ষার্থীকে চাকু দিয়ে আঘাত করে প্রমাণ করে দিয়েছে তারা শুধু শিবিরের উপর নয় কর্মচারী, দোকানদার, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপরও হামলা চালাতে চায়। আমরা তারেক রহমানকে বলে দিতে চাই, আপনি যদি আপনার দলীয় সংগঠন বিবেচনা করে এ হামলার বিচার না করেন তাহলে সারাদেশের মানুষ, সাধারণ শিক্ষার্থী, দোকানদার, কর্মচারী ও সাংবাদিকরা একত্রিত হয়ে আপনার বিরুদ্ধে লড়তে বাধ্য হবে।”
উল্লেখ্য, বিক্ষোভ মিছিলে রাকসু, হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ তিন শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
