গাছ না কেটে বিকল্প পরিকল্পনার দাবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় ৯৮টি গাছ কাটার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মূল ফটক থেকে ‘চির উন্নত মম শির’ পর্যন্ত সড়কের একপাশের জারুল, সোনালু ও কৃষ্ণচূড়াসহ অন্যান্য গাছগুলো অপসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও তা পরিবেশ ধ্বংসের বিনিময়ে হতে পারে না। তারা গাছ না কেটে বিকল্প পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ক্যাম্পাস-সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন,
“আমাদের ক্যাম্পাসে এমনিতেই গাছ কম। তার ওপর মূল ফটক থেকে ‘চির উন্নত মম শির’ পর্যন্ত ৯৮টি বিরল গাছ কাটার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা চাই, কোনোভাবেই যেন গাছগুলো কাটা না হয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরিবেশ কর্মী রাতুল মুন্সি আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছগুলো ২০১৩ সাল থেকে তিন ধাপে রোপণ করা হয়েছে। প্রায় ১৩ বছর আগে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই এসব গাছ লাগানো হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বর্তমান প্রশাসন তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। এমনকি ‘গ্রীন বাউন্ডারি’ নামে একটি প্রকল্প অনুমোদিত হলেও সেটিও বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রশাসন। ডিপিডি বারবার বলে আসছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবসময় ৬ ফুটের বেশি উচ্চতার গাছ থাকবে না।”
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে গাছ অপসারণ জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস কমিটির সদস্য-সচিব প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “উপাচার্যের সঙ্গে বসলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলে আপনাদের জানানো হবে।”
প্রায় ১৩ বছর আগে রোপণ করা এসব গাছ ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বয় রেখে বিকল্প পরিকল্পনার দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
