গাছ কেটে গাছ লাগাবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ২০:২১ | অনলাইন সংস্করণ
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিকে প্রায় ৯৮টি গাছ কাটার পরিকল্পনা, অন্যদিকে আগামী পাঁচ বছরে ৪ হাজার ৫০০ বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে ‘চির উন্নত মম শির’ পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে জারুল, সোনালু ও কৃষ্ণচূড়াসহ প্রায় ৯৮টি গাছ অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীরা। তারা গাছ না কেটে বিকল্প পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশকর্মী রাতুল মুন্সি বলেন, “এই গাছগুলো ২০১৩ সাল থেকে পরিকল্পিতভাবে তিন ধাপে রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসন সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ‘সবুজ বেষ্টনী’ প্রকল্প অনুমোদন পেলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এখন আবার পুরোনো গাছ কেটে নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে।”
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কিছু গাছ অপসারণ জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও কর্ম কমিটির সদস্য-সচিব প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “উপাচার্যের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গাছ কাটার সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ভবিষ্যতে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা সবাইকে জানানো হবে।”
অন্যদিকে, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী পাঁচ বছরে ক্যাম্পাসে ৪ হাজার ৫০০ গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার (০৬ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, “অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে গাছ লাগানো হয়েছিল। এবার পরিকল্পিতভাবে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে ৪ হাজার ৫০০ গাছ লাগানো হবে, যা ক্যাম্পাসের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে ১ হাজার, ২০২৭ সালে ২ হাজার এবং ২০২৮ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৫০০টি করে গাছ রোপণ করা হবে।
তবে একদিকে পুরোনো গাছ কাটার পরিকল্পনা এবং অন্যদিকে নতুন বৃক্ষরোপণের ঘোষণা—এই দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে সমন্বয় কতটা থাকবে, তা নিয়েই এখন শিক্ষার্থী ও পরিবেশ সচেতন মহলে আলোচনা চলছে।
