‘নজরুল পুরস্কার’ পাচ্ছেন অধ্যাপক ড. রশিদুন নবী

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ১৯:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নজরুল গবেষক, স্বরলিপিকার ও সংগীতজ্ঞ অধ্যাপক ড. রশিদুন নবী বাংলা একাডেমির ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’ এ ভূষিত হচ্ছেন। আগামী ২৩ মে বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নজরুল গবেষণা ও নজরুলসংগীত চর্চায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রশিদুন নবী ১৯৮০ সাল থেকে নজরুলচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৮৯ সালে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়। পরে ২০০৭ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি অধ্যাপক (গ্রেড-১) পদে উন্নীত হন এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অবসর গ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় তিনি সংগীত বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান, দোলনচাঁপা হলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রভোস্ট এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নজরুলসংগীত শিল্পী ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও পরিচিত ড. রশিদুন নবী। তিনি সর্বাধিক সংখ্যক নজরুলসংগীতের সংকলনগ্রন্থ ‘নজরুল-সংগীত সংগ্রহ’-এর সম্পাদক। নজরুলবিষয়ক গবেষণা, স্বরলিপি ও সম্পাদিত গ্রন্থ মিলিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২০টির বেশি। এছাড়া বিভিন্ন জার্নাল ও গবেষণাগ্রন্থে তার প্রায় অর্ধশত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

নজরুল গবেষণায় অবদানের জন্য এর আগে তিনি কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ‘নজরুল পুরস্কার ২০১৭’, বাংলাভিশন ফাউন্ডেশনের ‘কবি নজরুল স্মৃতি পদক ২০১৭’, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়াস্থ নজরুল একাডেমির ‘নজরুল পুরস্কার ২০১৮’ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নজরুল পদক ২০২৫’ লাভ করেন।

তার কর্মজীবনে এক পর্যায়ে বিতর্কও তৈরি হয়। তৎকালীন সরকারের স্থানীয় সংসদ সদস্যের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় প্রশাসন সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ শাকিল হাশমি বলেন, “প্রায় তিন বছর আদালতে লড়াই করে চাকরি ফিরে পেলেও তিনি তার প্রাপ্য মর্যাদা পাননি। আদালতের রায় পাওয়ার পরও তাকে দীর্ঘদিন যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র তার কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তাকে অসম্মান, অসহযোগিতা ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি আদালতের বারান্দায় বসেও নজরুলকে নিয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে গেছেন। ভবিষ্যতে তিনি রাষ্ট্রের আরও সম্মানজনক স্বীকৃতি লাভ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।”