ড. নুরুজ্জামানের গবেষণায় নেচার ইনডেক্সে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ২০:১৫ | অনলাইন সংস্করণ
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিশ্বখ্যাত গবেষণা সূচক ‘নেচার ইনডেক্স’-এ প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খান-এর গবেষণা প্রকাশনার ভিত্তিতে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫–২০২৬ সালের নেচার ইনডেক্স ইনস্টিটিউশন র্যাংকিংয়ে দেশের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭তম স্থান অর্জন করেছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ৩৩৯৭তম।
এছাড়া স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে দেশের মধ্যে ১৩তম এবং জীববিজ্ঞান বিষয়ে ১৬তম স্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. নুরুজ্জামান খানের তিনটি গবেষণা প্রবন্ধের ভিত্তিতেই প্রথমবারের মতো নেচার ইনডেক্সে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এসব গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘শেয়ার স্কোর’ দাঁড়িয়েছে ০.১৩, যা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে ড. নুরুজ্জামান খানের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। তার এখন পর্যন্ত ৪৪টি স্কোপাস ইনডেক্সড গবেষণাপত্রসহ ১৮৪টির বেশি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা রয়েছে। জনস্বাস্থ্য, জনসংখ্যা বিজ্ঞান ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে তার গবেষণা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
নেচার ইনডেক্সের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো একটি গবেষণাপত্রে একাধিক দেশি বা বিদেশি গবেষক ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলে সেই গবেষণার অবদান ভগ্নাংশ আকারে ভাগ করা হয়। এটিকে বলা হয় ‘শেয়ার স্কোর’। মূলত এই স্কোরের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে ড. নুরুজ্জামান খান বলেন, নেচার ইনডেক্সভুক্ত সাময়িকীর বাইরেও আমার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ জার্নালে নিয়মিত গবেষণা প্রকাশ করছেন। এসব অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।
গবেষকরা বলছেন, নেচার ইনডেক্সে অন্তর্ভুক্তি শুধু একটি র্যাংকিং নয়; এটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় কোনো প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বৈশ্বিক একাডেমিক মর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। বিশেষ করে দেশের তুলনামূলক নবীন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই অর্জন বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, স্প্রিঞ্জার নেচার পরিচালিত ‘নেচার ইনডেক্স’ বিশ্বের শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা অবদান মূল্যায়ন করে থাকে। আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সূচক হিসেবে পরিচিত।
