রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অধ্যাপক তাহমিনা আখতার

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ১৪:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক তাহমিনা আখতার যোগদান করেছেন। সোমবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুল খালেকের নিকট তিনি যোগদানপত্র জমা দেন। মঙ্গলবার সকালে অধ্যাপক তাহমিনা আখতার রবির ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ভিসি বলেন, রবি শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার উৎকর্ষের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করতে চাই। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশীদারিত্বমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে একটি আধুনিক, শিক্ষা-শিল্প দক্ষতাভিত্তিক, অংশীদারিত্বমূলক, গবেষণাবান্ধব ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। রবির অগ্রযাত্রায় সকলের মতামত ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে রবিকে একটি জাতীয় ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই হবে প্রধান লক্ষ্য।

বুধবার অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবনে স্থাপিত শহীদ মিনার ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ভিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবেন।

উল্লেখ্য, সোমবার মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে রবির ভিসি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতারকে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের রবির ভিসি পদে নিয়োগ দেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন।

অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডের মেধা তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান এবং এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডের মেধা তালিকায় ১০ম স্থান অর্জন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বিএসএস (সম্মান)-এ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান এবং এমএসএস-এ প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং বিষয়ে ফেলোশিপ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের প্রবর্তক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের বিশেষায়িত মাস্টার্স প্রোগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা।

তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ জার্নালে পঞ্চাশটিরও অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্রগুলো হলো সামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু উন্নয়ন ও গবেষণা প্রকল্পে তিনি দলনেতা ও প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (২০১৯-২০২১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলের প্রভোস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক, সিনেট সদস্য এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশনের মহাসচিব এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব। এছাড়া এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন (APASWE)-এর সদস্য হিসেবেও তিনি সক্রিয় রয়েছেন।

তাঁর বিশাল অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ প্রজ্ঞা ও প্রশাসনিক দক্ষতা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলের বিশ্বাস।