নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ বেরোবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১৬:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

  বেরোবি প্রতিনিধি

স্ত্রীর উপার্জিত টাকায় জীবনযাপন, মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি, নেশার টাকার জন্য মারধর এবং নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগে তার বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তার স্ত্রী উম্মে জেবিন, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।

সোমবার (১৫ জুন) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর পৃথক লিখিত আবেদন জমা দেন উম্মে জেবিন।

অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, “বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সঙ্গে গত ২৬ মার্চ আমার বিবাহ হয়। বিবাহের পূর্বে সে আমার সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করলে আমার পরিবার তাজহাট থানায় তার নামে অভিযোগ করে। সেই অভিযোগ থেকে বাঁচতে মাইদুল ইসলাম আমাকে বিবাহ করে। বিবাহের পর থেকে সে আমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। সে নিয়মিত নেশা করে এবং নেশার টাকার জন্য আমার গায়ে হাত তোলে। বিবাহের পর থেকে এ পর্যন্ত সে কোনো কাজ করে না। সম্পূর্ণ আমার দেওয়া টাকায় চলে এবং জোরপূর্বক আমার কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে নেশা করে।”

তিনি আরও বলেন, “ছোটখাটো যেকোনো বিষয় নিয়ে সে আমাকে মারধর করে এবং পরিবারের কাছ থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। যৌতুকের টাকা না দিলে তার পরিবার আমাকে মেনে নেবে না বলেও জানায়। আমাকে ঘরে আটকে রেখে মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখায় যে, কাউকে এ বিষয়ে জানালে আমাকে হত্যা করবে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে সে আমাকে নির্যাতন করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সে আমার কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়েছে এবং জোরপূর্বক একটি স্মার্টফোনও নিয়েছে, যা এখন নিজের বলে দাবি করে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাইদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জেবিন আমার বিবাহিতা স্ত্রী, প্রেমিকা নয়। এটি আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে সংবাদ করার কিছু নেই।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, “এটি স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয়। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে কোনো অনিয়ম করে, তাহলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “বিষয়টি তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি অভিযোগ এসেছে। তবে অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে অফিসে জমা দিতে হবে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ জমা হলে আমরা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”