রাবিতে হল দখলের অভিযোগে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১৫:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) হল দখল, সিট-বাণিজ্য ও গেস্টরুম কালচার ফিরিয়ে আনার চেষ্টার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এ সময় সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর বিরুদ্ধে নতুন করে হল দখল ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হয়।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত ‘অবৈধভাবে হল দখলের বিরুদ্ধে’ মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।

মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, গত জুলাইয়ে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার মধ্য দিয়ে হল দখল, সিট-বাণিজ্য ও গেস্টরুম কালচারের অবসান ঘটেছিল। কিন্তু বর্তমানে ছাত্রদল আবারও হল দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর চাঁদা চাপিয়ে এবং গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের অনেক নেতার ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার এক থেকে দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁদের সিট বাতিল করা হয়নি। বিভিন্ন হলে পদধারী নেতারা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা রয়েছে বলেও দাবি করেন ছাত্রশিবির সভাপতি।

মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, গেস্টরুম কালচার, সিট-বাণিজ্য ও হল দখলের রাজনীতি পুনরায় চালু করার যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ছাত্রশিবির মাঠে থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদ্যমান নীতিমালা উপেক্ষা করে দলীয় বিবেচনায় হলে সিট বরাদ্দ অব্যাহত থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে ছাত্রশিবির।

মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারীদের সিট বাতিল করে শূন্য আসনে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ওঠানো, ভর্তি প্রক্রিয়ার মতো একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে হলসংক্রান্ত তথ্য উন্মুক্ত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা।

এ সময় রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, হলের আসন প্রতিটি শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার। অনেক শিক্ষার্থী মাস্টার্সে উঠেও সিট পাচ্ছেন না, অথচ পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও রাজনৈতিক পরিচয়ে অনেকে হলে অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারীদের বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্টরা তা অস্বীকার করছেন। এ ধরনের অবস্থানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের হল, অনুষদ ও বিভিন্ন বিভাগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।