১৩ কোটি টাকার লিফটেই আতঙ্কে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত লিফটগুলো এখন শিক্ষার্থীদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি, মাঝপথে বিকল হয়ে পড়া, সেন্সরের অকার্যকারিতা এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে লিফট ব্যবহার করতে গিয়ে ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন এবং দুটি আবাসিক হলের জন্য সুইজারল্যান্ড থেকে আমদানি করা আনা ৫৫০ ব্র্যান্ডের ১৫টি লিফট স্থাপন করা হয়।

এসব লিফট ক্রয়ে ব্যয় হয় প্রায় ১৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে দুটি আবাসিক হলে ৯টি এবং দুটি অনুষদ ভবনে ৬টি লিফট স্থাপন করা হয়।

তবে স্থাপনের পর থেকেই অনুষদ ভবনের কয়েকটি লিফট নিয়মিত বিকল থাকার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের চারটি লিফট অধিকাংশ সময় অচল থাকায় বাকি দুটি লিফটের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওঠানামা করতে হচ্ছে।

এদিকে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শিউলিমালা ও বিদ্রোহী হলের একাধিক লিফট প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। সচল থাকা লিফটগুলোর অনেকগুলোর সেন্সরও ঠিকমতো কাজ করে না। চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং জরুরি অবস্থায় ব্যবহারের জন্য থাকা কলিং বেল ও টেলিফোনও অনেক ক্ষেত্রে অকেজো।

এ কারণে লিফটের ভেতরে আটকা পড়ার ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম আজাদ জানান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি লিফটে তিনি আরও সাতজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট আটকা ছিলেন। তিনি বলেন, “ইমার্জেন্সি বাটন চাপলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে খাতার পৃষ্ঠা নাড়িয়ে বাইরে থাকা লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করি। একপর্যায়ে একজন শিক্ষকের নজরে বিষয়টি এলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রায় ৪০ মিনিট পর আমরা বের হতে পারি।”

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী বুশরা তাসলিম বলেন, “আমি তিনবার লিফটে আটকে গেছি। দুইবার অনুষদ ভবনে এবং একবার হলে। কখনো বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কখনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝপথে লিফট বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিবারই আতঙ্কের মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। হলে প্রায়ই লিফট বন্ধ থাকে। অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায় না।”

আইন ও বিচার বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদ বলেন, “হঠাৎ লিফট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ ভেতরে আটকে ছিলাম। পরে বন্ধুদের সহায়তায় বের হতে পারি। বের হওয়ার সময় সেন্সর ঠিকভাবে কাজ না করায় দরজায় আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এরপর থেকে লিফটে উঠলেই ভয় কাজ করে। আমার ক্লস্ট্রোফোবিয়া থাকায় পরিস্থিতি আরও আতঙ্কজনক হয়ে ওঠে।”

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, লিফট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিদ্রোহী হলের লিফট অপারেটর আরিফুল ইসলাম বলেন, “হলের ডান পাশের একটি লিফটের কলিং বেল ও টেলিফোন দীর্ঘদিন ধরে বিকল। কেউ ভেতরে আটকে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বোঝার কোনো উপায় থাকে না। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এসব লিফটের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।