রাবিতে নতুন উত্তাপ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছাত্রদল-শিবিরের

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

  রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তীব্র হচ্ছে। উভয় সংগঠন একে অপরের বিরুদ্ধে হল দখল ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুললেও তা অস্বীকার করেছে।

এদিকে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতারা বলছেন, ক্যাম্পাসে আবারও পুরোনো ধাঁচের হল দখলের সংস্কৃতি ফিরে আসছে।

ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছেন এবং হল প্রশাসনের সহযোগিতায় সিট দখলের চেষ্টা করছেন। এ দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধনও করেছে সংগঠনটি। অন্যদিকে ছাত্রদল এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৭টি আবাসিক হলে আসন রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী হল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নীতিমালা অনুযায়ী, মোট আসনের ১০ শতাংশ প্রাধ্যক্ষদের বিশেষ কোটায় বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এদিকে বিশেষ কোটায় ছাত্রদল-সমর্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর আবাসিকতা পাওয়া এবং সোহরাওয়ার্দী হলে বৈধ আবাসিকতা ছাড়া ছাত্রদলের তিন কর্মীর অবস্থানের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের অভিযোগ, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রশিবিরও বিভিন্ন হলে প্রভাব বিস্তার করেছে। এতে দুই সংগঠনের মধ্যে হলকেন্দ্রিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।

গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মুখপাত্র ফুয়াদ রাতুল বলেন, “হল বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে দলীয় বিবেচনায় সিট দেওয়া হচ্ছে। যে দল যেখানে প্রভাবশালী, সেখানেই হল দখলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, “অতীতে ছাত্রলীগের সময় যে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে সিট বণ্টনের সংস্কৃতি ছিল, বর্তমানে তার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।”

অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ছাত্রদল কখনো হল দখল বা সিট বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নয়।”

ছাত্রশিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালও বলেন, “ছাত্রশিবিরের সুপারিশে কাউকে হলে আবাসিকতা দেওয়া হয়েছে—এমন একটি প্রমাণও দেখানো যাবে না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, “আবাসিক নীতিমালা অনুসারেই সিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে হল প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে।”