গবেষণা খাতে স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রাখার দাবি জাবি শিক্ষক ফোরামের

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

  জাবি প্রতিনিধি

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা বাজেট ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে শিক্ষক ফোরাম জানায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা অনুদান ব্যবস্থাপনায় এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক ও আইনগত স্বায়ত্তশাসন, গবেষণা কার্যক্রমের গতি এবং একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণার পরিকল্পনা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ, প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা উচ্চশিক্ষার মৌলিক শর্ত বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গবেষণা তহবিল ব্যবহারে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে সেই প্রক্রিয়া এমন হতে হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন বিঘ্নিত না হয় এবং গবেষণা কার্যক্রম অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় না পড়ে।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম মনে করে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এ সময়ে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা সময়ের দাবি।

বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, গবেষণা বাজেট ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কোনো নীতি প্রণয়ন বা পরিবর্তনের আগে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যা একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জাবিতে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এ খাতের জন্য সরাসরি ইউজিসি থেকে অর্থ প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।