কুবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গান

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  কুবি প্রতিনিধি

রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লার যাত্রার প্রথম দিন স্মরণে এবং আন্দোলনে শহীদ, আহত ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)-তে মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গান পরিবেশন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

শনিবার (৪ জুলাই) প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য ও জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, কুবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির অন্যতম সংগঠক নাঈম ভূঁইয়া, আহমেদ আব্দুল্লাহ তারেক-সহ অন্যান্যরা।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইনকিলাব, ইনকিলাব, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ’, ‘সাঈদ-ওয়াসিম-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘চব্বিশের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লড়াই, লড়াই, লড়াই চাই; লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘কোটা না মেধা—মেধা, মেধা’, ‘বিচার চাই, বিচার চাই; খুনি হাসিনার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

কুবি জাতীয় ছাত্রশক্তির সমন্বয়ক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ‘কুবি তথা কুমিল্লার জুলাই যাত্রার সূচনা ৪ জুলাই। তাই আজকের দিনের প্রথম প্রহরে কুবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আমরা মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গানের আয়োজন করি। আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ আব্দুল কাইয়ুম ভাইকে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদকে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই সব সাহসী সহযোদ্ধাদের, যারা জুলাই আন্দোলনে হাত, পা কিংবা চোখ হারিয়েছেন অথবা ছোট-বড় নানা ধরনের আহত হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্মরণ করছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, বিশেষ করে ১১ জুলাই আমাদের ঢাল হয়ে আসা প্রতিরোধকারী নারী শিক্ষার্থীদের এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই সব পরিবারকে, যারা সংকটময় সময়ে আমাদের আশ্রয় দিয়ে জীবন রক্ষা করেছিলেন। বিশেষভাবে স্মরণ করছি দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের, যাদের অবদানও ছিল অনন্য ও অতুলনীয়। জুলাইয়ের স্পিরিট টিকে থাকুক জনম জনম। ফ্যাসিবাদী শক্তি বিলোপে প্রজন্মের পর প্রজন্ম জুলাইয়ের উদ্দীপনায় জেগে উঠবে।’

জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জুলাই আন্দোলনে সাহস জুগিয়েছে। পুলিশ গুলি চালালেও তারা দমে যায়নি। বরং তারা পুরো দেশের কাছে বার্তা দিয়েছে যে, এই লড়াই পুরো রাষ্ট্রের, জনগণের, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের এবং সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন এবং একটি মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করেছি। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবেই। আমাদের চূড়ান্ত বিজয় তখনই হবে, যখন আমরা সংস্কারের বাংলাদেশ গঠন করতে পারব।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। জুলাই কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটি আপামর জনতার। জুলাইয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আমরা আবার যেন জুলাইকে স্মরণ করি এবং সেই চেতনা থেকেই দেশের স্বার্থে কাজ করি।’