জাককানইবির বাজেটে বেতন-ভাতায় ৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭৫ কোটি ২০ লাখ ৪ হাজার টাকার বাজেটের খাতভিত্তিক বরাদ্দ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। এ খাতে মোট ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য জানান, বেতন-ভাতার মধ্যে শিক্ষকদের বেতনের জন্য ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধার জন্য ৩০ লাখ টাকা এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশেষ ভাতা বাবদ ১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গত অর্থবছরের শিক্ষকদের প্রায় ৫ কোটি টাকার বকেয়া বেতনও এ বরাদ্দ থেকেই পরিশোধ করা হবে।
তিনি আরও জানান, পণ্য ও সেবা ক্রয়ের জন্য ১৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) খাতে ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার জন্য ১৩ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, চলতি অর্থবছরে গবেষণা অনুদান ও পরিবহন খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কারণ, গবেষণা খাতের অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কেন্দ্রীয়ভাবে গ্রহণ করছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে এ খাতে কোনো বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাজেটের অবশিষ্ট অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় থেকে সমন্বয় করা হবে। এ আয়ের প্রধান উৎস ভর্তি ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, হল ভাড়া, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার ভাড়া, গেস্ট হাউস ভাড়া ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ফি।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ১৮৭তম পূর্ণ কমিশন সভায় দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য মোট ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই বরাদ্দের অংশ হিসেবে জাককানইবি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭৫ কোটি ২০ লাখ ৪ হাজার টাকা পেয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা বেশি।
এদিকে, চলতি অর্থবছর থেকে গবেষণা খাতে নতুন কাঠামো গ্রহণ করেছে ইউজিসি। এ কাঠামোর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা বাজেট এবং ইউজিসির গবেষণা বরাদ্দ একীভূত করা হয়েছে। ফলে গবেষণা খাতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বেড়ে ২২৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে আরও ১২ কোটি টাকা যুক্ত হওয়ায় এ দুই খাতে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।
