গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগে বেরোবি অধ্যাপককে সতর্ক করল প্রশাসন

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১৯:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  বেরোবি প্রতিনিধি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগে গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ প্রামানিক।

রোববার (১২ জুলাই) তিনি বলেন, যেহেতু তিনি একজন গবেষক, তাই তাকে শুধু সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তিনি গবেষণা কার্যক্রম থেকে নিরুৎসাহিত না হন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। তাকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিদেশি গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত বছরের ২৮ জুন অনুষ্ঠিত ১১৩তম সিন্ডিকেট সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

জানা যায়, গত বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলামের যৌথভাবে প্রকাশিত সাতটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন (হাই ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর) জার্নাল Science of the Total Environment থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

তবে গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি এডিটর ও করেসপন্ডিং অথরের মধ্যকার বিষয়। এখানে অন্য অথরদের কোনো ভুল নেই। আমরা শুধু রিভিউ করেছি।”

প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, “Personal Protective Equipment-Derived Pollution During Covid-19 Era: A Critical Review of Ecotoxicology Impacts, Intervention Strategies, and Future Challenges” শিরোনামের গবেষণায় অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলাম করেসপন্ডিং অথর হিসেবে ছিলেন। গবেষণাপত্রে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণাটির প্রথম অথর ছিলেন অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলামের ছাত্র মেহেদি হাসান এবং দ্বিতীয় অথর ছিলেন অধ্যাপক নিজেই। তৃতীয় ও চতুর্থ অথর হিসেবেও বেরোবির দুই শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। গবেষণাপত্রে অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলামের দায়িত্ব হিসেবে মূল ধারণা প্রদান, ড্রাফট প্রস্তুত, পর্যালোচনা, সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এলসেভিয়ারের জার্নালের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, “Managing the Invisible Threat of Microplastics in Marine Ecosystems: Lessons from Coast of the Bay of Bengal” শিরোনামের আরেকটি গবেষণাপত্রও প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১২ জন লেখকের ওই গবেষণাপত্রের প্রথম চারজনই বেরোবির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এখানেও অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলামের ভূমিকা হিসেবে ড্রাফট প্রস্তুত, পর্যালোচনা, সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধানের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া, “Exposure of Adult Zebrafish (Danio rerio) to SARS-CoV-2 at Predicted Environmentally Relevant Concentrations: Outspreading Warns About Ecotoxicological Risks to Freshwater Fish” শিরোনামের গবেষণায় অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলামের দায়িত্ব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়বস্তু নিয়ে সমালোচনামূলক পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জার্নালটির বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত এমন সাতটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে, যেখানে অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে।