ওষুধ গবেষণায় নতুন দিগন্ত, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ডাটাবেজ নির্মাণে জাবি
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ
জাবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশের গবেষকদের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঔষধি উদ্ভিদের ফাইটোকেমিক্যাল ডাটাবেজ। প্রায় দুই বছরের গবেষণা, তথ্যসংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের প্রথম বায়োইনফরম্যাটিক্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স লিমিটেড (ডিওবি) এই তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছে। ডাটাবেজটির নাম রাখা হয়েছে বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্টস অ্যান্ড ফাইটোকেমিক্যালস ডাটাবেজ (বিএমপিপিডি)।
সংশ্লিষ্ট গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ডাটাবেজটিতে ৭০০-এর বেশি ঔষধি উদ্ভিদ প্রজাতি এবং প্রায় ৬৩ হাজার স্বতন্ত্র (ইউনিক) ফাইটোকেমিক্যাল যৌগের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
গবেষকদের দাবি, এটি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফাইটোকেমিক্যাল তথ্যভাণ্ডার। আধুনিক ওষুধ আবিষ্কার, ফাইটোকেমিক্যাল স্ক্রিনিং এবং এথনোফার্মাকোলজি গবেষণায় এই ডাটাবেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, বিশ্বের অনেক জীবনরক্ষাকারী ওষুধ উদ্ভিদজাত রাসায়নিক যৌগ থেকে উদ্ভাবিত হয়েছে। আধুনিক বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রযুক্তির সহায়তায় এই ডাটাবেজে সংরক্ষিত যৌগগুলোর সম্ভাব্য ঔষধি কার্যকারিতা দ্রুত এবং তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।
এর আগে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফাইটোকেমিক্যাল ডাটাবেজ হিসেবে ভারতের IMPPAT 2.0 পরিচিত ছিল, যেখানে প্রায় ১৭ হাজার ৯৬৭টি ফাইটোকেমিক্যাল যৌগের তথ্য রয়েছে। নতুন বাংলাদেশি ডাটাবেজে সেই সংখ্যার প্রায় সাড়ে তিন গুণ, অর্থাৎ ৬৩ হাজারেরও বেশি ইউনিক যৌগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ৪৫টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এই ডাটাবেজ ব্যবহার করছেন। কম্পিউটারনির্ভর ওষুধ আবিষ্কার, উদ্ভিদের রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ এবং লোকজ চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় এটি একটি উন্মুক্ত গবেষণা-সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক সাইটেশন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এর তথ্য ইতোমধ্যে গবেষকদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
ডিওবির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসকে ফয়সল আহমেদ বলেন, “প্রকৃতি শুরু থেকেই যে ভাষায় কথা বলে এসেছে, তার আধুনিক বৈজ্ঞানিক রূপ হলো বায়োইনফরম্যাটিক্স। এই ডাটাবেজের প্রতিটি যৌগের মধ্যে সম্ভাব্য জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ঔষধি ঐতিহ্যকে বায়োইনফরম্যাটিক্সের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার যাত্রা বাংলাদেশ থেকেই শুরু হচ্ছে।”
এই গবেষণা প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তিন শিক্ষার্থী। তারা হলেন ফার্মেসি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের মো. ফয়সল ইমতিয়াজ, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের কানিজ ফাতেমা এবং একই বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আফতাবুর রহমান। তারা প্রকল্প সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স লিমিটেড বাংলাদেশের প্রথম বায়োইনফরম্যাটিক্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি চারটি বিশেষায়িত বিভাগের মাধ্যমে দেশের ১ হাজার ২০০-এর বেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকের সঙ্গে কাজ করছে।
এছাড়া ৪৫টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ঔষধি উদ্ভিদভিত্তিক জ্ঞানকে আধুনিক বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
