৫ দাবিতে অবরুদ্ধ জাবির সিএমও, আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৭:১২ | অনলাইন সংস্করণ
জাবি প্রতিনিধি

ওষুধের হিসাবের অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে অবরুদ্ধ থাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রধান মেডিকেল অফিসার (সিএমও) ড. শামসুর রহমানকে প্রশাসনের আশ্বাসের পর মুক্ত করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ড. শামসুর রহমানকে তার কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।
প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
জানা যায়, মেডিকেল সেন্টার থেকে ৩০ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধের হিসাব নেই বলে অভিযোগ ওঠে। নিখোঁজ এসব ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৩ হাজার ১১০ টাকা।
এছাড়াও প্রধান মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্স ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাকে কক্ষে অবরুদ্ধ রাখা হয়।
এ বিষয়ে জাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মুবারক বলেন, প্রধান মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে ওষুধের হিসাবসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। একই সঙ্গে প্রশাসনের দীর্ঘদিনের গাফিলতির কারণেই তারা এই কর্মসূচি পালন করেছেন।
তিনি বলেন, মেডিকেল সেন্টারের নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের প্রতিবাদ এবং চিকিৎসাকেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেলে রূপান্তরের দাবিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সাত দিনের মধ্যে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, ছয়জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ, মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আরও ১০টি কক্ষ নির্মাণ, অপারেশন থিয়েটারের আধুনিকায়ন, নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্স চালু এবং মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক হিসেবে একজন শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান।
হুসনে মুবারক আরও বলেন, ওষুধের হিসাবের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, অ্যাম্বুলেন্স ও প্যাথোলজি সেবার উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়ায় আপাতত অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রব বলেন, মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের হিসাবের অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর স্টোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর প্রধান মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যমান শূন্য পদে নিয়োগ এবং নতুন পদের অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) প্রস্তাব পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের হিসাবের অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামালকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর প্রধান মেডিকেল অফিসার ড. শামসুর রহমানের বিরুদ্ধেও তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
