বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন ৪ সদস্যকে রাবি শিক্ষক ফোরামের শুভেচ্ছা
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০৯ | অনলাইন সংস্করণ
রাবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চারজন নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করায় দলের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। একইসঙ্গে নবনিযুক্ত চার সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বিবৃতিতে এ তথ্য জানান জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম ছাদিক ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত, অভিজ্ঞ ও যোগ্য নেতাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার এ সিদ্ধান্ত বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও গতিশীল করবে। নবনিযুক্ত চার সদস্য তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতা কাজে লাগিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। নতুন চার সদস্যকে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রাজনীতি, চিকিৎসা, পেশাজীবী অঙ্গন ও প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয় ঘটেছে। খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, পেশাজীবী ও অভিজ্ঞ আমলাকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় তাদের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তারা। একইসঙ্গে এ সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
বিবৃতিতে রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলা হয়, তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রিজভী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তী সময়ে দলের বিভিন্ন সংকট ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি একাধিক মামলায় কারাবরণ করেন।
অমান উল্লাহ আমান বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি দুইবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারকে একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবী নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের (বিএমএসআরআই) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। এর আগে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) নির্বাহী পরিচালক ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থায়ী কমিটির আরেক নবনিযুক্ত সদস্য মো. ইসমাইল জবিহউল্লাহ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশাসনিক জীবনে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরবর্তীতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর মো. ইসমাইল জবিহউল্লাহ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনসহ দলের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে ভূমিকা রাখেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তিনি মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
