স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের ফের উপবৃত্তি চালুর উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি আবারও চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট নিয়ে বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়েও আলোচনা হয়। ওই কর্মসূচির ফলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যয় ও উপকারভোগীর সংখ্যা নিরূপণের পাশাপাশি কীভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর প্রত্যাশিত ফলাফল কী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে প্রস্তাব তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
মিড-ডে মিল নিয়েও নির্দেশনা---
বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা খাবার যেন পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয় এবং খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করা হয়—এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মিড-ডে মিল বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ বিবেচনায় দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এসব পদ্ধতির কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করতে পৃথক দুটি জেলায় দুই ধরনের পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
