রাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ২০:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ পদে তার নিয়োগ নিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, নিয়ম মেনেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেনকে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই আদেশে এতদিন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ এইচ এম আসলাম হোসেনের অনার্স ডিগ্রি নেই। তিনি ১৯৯২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে ১৯৮১ সালে সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৩ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন।

তবে রাবির উপ-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকা সত্ত্বেও তাঁর নিয়োগের সময় এ শর্ত শিথিল করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, উপ-রেজিস্ট্রার পদে আবেদনের ক্ষেত্রে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হলেও তাঁর নিয়োগের সময় শর্তটি শিথিল করা হয়েছিল। একই সঙ্গে একজন উপ-রেজিস্ট্রারকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান আরও দাবি করেন, রেজিস্ট্রার পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি এবং এ নিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক সুপারিশ রয়েছে বলে তিনি বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এ এইচ এম আসলাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, তা মিথ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী আমাকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি অনার্স না করলেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলেও জানান।

এদিকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদও নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি থাকাকালে তাঁর যে ফাইল দেখে এসেছি, তাতে তিনি কোনোভাবেই যোগ্য বলে মনে করি না। এমন একজন মানুষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গেলে বিশ্ববিদ্যালয় আরও পিছিয়ে যাবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন উপ-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে আগে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দিয়ে পরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতা দেখেই দেওয়া হয়েছে, কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। যখন পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া হবে, তখন নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে এই নিয়োগে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।’