অনলাইন সংস্করণ
১০:৫১, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে অনলাইন আবেদনের সময় শেষ হয়েছে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়। এতে আবেদন করেছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী।
অথচ এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬২ জন। হিসাব অনুযায়ী- ১ লাখ ৪৮ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেননি। তাদের ভর্তির আগ্রহ নেই।
শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যারা আবেদন করেনি, তারা সবাই ঝরে পড়েছে; বিষয়টি এমন নয়। কেউ পড়ালেখার জন্য বিদেশ যেতে পারে; কেউ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হতে পারে। পাশাপাশি কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়তেও পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়। এ প্রক্রিয়া চলে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। ওইদিন ঘোষিত ফলাফলে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছিল। তবে পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয় গত ১০ সেপ্টেম্বর। তাতে আরও ৪ হাজার ৫৮৫ জন ফেল থেকে পাস করে।
এতে চলতি বছর মোট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬২ জনে। আর একাদশে ভর্তির আবেদন করেছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী। পাস করেও একাদশে ভর্তিতে আগ্রহ নেই এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ২২৮ জন।
প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থীর একাদশে ভর্তির আবেদন না করা প্রসঙ্গে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, 'পাস করা সবাই একাদশে ভর্তি নাও হতে পারে। অনেকে বিদেশে পড়ালেখা করতে যেতে চায়। অনেকে আবার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন জায়গায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হয়। পাশাপাশি নার্সিং সেক্টর রয়েছে, সেখানেও ভর্তি হয়।'
কিছু শিক্ষার্থী ঝরেও পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বোর্ড চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, এসএসসি পাস করার পর কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঘটনাও ঘটে। বিদেশে শ্রমিক হিসেবে অনেকে চলে যায়। তাছাড়া বাল্যবিয়ের ব্যাধি আমাদের সমাজে এখনো রয়েছে। ফলে মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনাও ঘটতে পারে। এর আগে অনেক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠেও এসেছে। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করবো।'
এদিকে, আবেদন করা শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম (চয়েজ) দিয়েছে। আবেদন করা শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বিবেচনায় নিয়ে পছন্দের কলেজে মনোনয়ন তালিকা তৈরি করা হবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় এ ফল প্রকাশ করা হবে। পুরো এ প্রক্রিয়াটিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে বুয়েট।
ফল প্রকাশ-ভর্তি-ক্লাস শুরু কবে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভর্তি আবেদন করে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চয়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হবে।
শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। অনলাইন আবেদন, ফল প্রকাশ, শিক্ষার্থী নির্বাচন ও নিশ্চয়ন প্রক্রিয়ার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে আগামী ২০-২২ সেপ্টেম্বর।
এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। তবে একই দিন ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি পড়লে পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সারা দেশে একযোগে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হতে পারে।
একাদশে মোট আসন কত মাউশি, মাদরাসা ও কারিগরি অধিদপ্তর এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্যমতে, দেশের বিভিন্ন কলেজ ও মাদরাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। এর বিপরীতে চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬২ জন।
হিসাব অনুযায়ী- এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস সব শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও কলেজ ও মাদরাসাগুলোয় প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি পড়ে থাকবে। অর্থাৎ, মোট আসনের অর্ধেকেরও বেশি শূন্য থাকবে।
তবে সার্বিকভাবে আসন বেশি থাকলেও ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে থাকা নামি কলেজগুলোতে এবারও ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর আগ্রহ থাকায় ভালো ফল করেও অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ নাও পেতে পারেন।