অপ্রতিম হত্যার আসামি ফাহাদ নয়, ছবির কিশোর মাহিম

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  কুবি প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ দাবি করে একটি প্রতিবেদনে যে কিশোরের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি ফাহাদের নয় বলে দাবি করেছেন ছবিতে থাকা কিশোর মিনহাজুল ইসলাম মাহিম।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত ‘গাঁজাসহ দেড় বছর আগে আসামি ফাহাদকে আটক করেছিলেন অপ্রতিমের মা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ছবিটি ব্যবহার করা হয়। তবে অনুসন্ধানে ছবিতে থাকা কিশোরের নাম মিনহাজুল ইসলাম মাহিম বলে জানা গেছে।

বিষয়টি মাহিম নিজেও নিশ্চিত করেছেন। তার বাড়ি কুমিল্লার কোটবাড়ির গাবতলিতে। মাহিম জানান, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে ফাহাদ দাবি করে প্রকাশিত ছবিটি তারই। তবে ছবিতে থাকা কিশোরটি অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ নন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বর থেকে গাঁজাসহ বহিরাগত সাত কিশোরকে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডি। আটক সাতজনের মধ্যে ফাহাদ নামের কেউ ছিলেন না বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, যুগান্তরসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রক্টর অফিসে আটক মাহিমের ছবিকে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার আসামি ফাহাদের ছবি হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাহিম। এতে তিনি বিব্রত এবং নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন বলে জানান।

মাহিম বলেন, ‘গতকাল থেকে নিউজে প্রকাশিত ছবিতে যে ছেলেকে ফাহাদ দাবি করা হচ্ছে, সেটা আসলে ফাহাদ না। ওই ছবিটা আমার। আমি মিনহাজুল ইসলাম মাহিম। কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করে এভাবে অন্যজনের ছবি প্রচার করা উচিত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ছবিটা প্রকাশের পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। আমাকে সবাই ফোন দিচ্ছে, মেসেজ দিচ্ছে। এতে আমি বিব্রতবোধ করছি। আমি চাই, যারা এটা প্রচার করছে তারা যেন সেটা ডিলিট করে সত্যটা তুলে ধরে।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান (রাহাত) বলেন, ‘গত ৬ ফেব্রুয়ারি যে সাতজনকে আটক করা হয়েছিল, তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে সাতজনের নাম আমার সঠিক মনে নাই। আমরা ডকুমেন্টসটাও খুঁজে পাইনি। তাই এখন সঠিকভাবে বলতে পারছি না সেখানে ফাহাদ নামের কেউ ছিল কি না।’