রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  রাবি প্রতিনিধি

নির্ধারিত সময় পার হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।

উপাচার্য বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। শুনেছি, প্রতিবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হতে মধ্যরাত বা শেষ রাত হতে পারে। যদি মধ্যরাত পেরিয়ে যায়, তাহলে আগামীকাল প্রতিবেদনের সুপারিশ প্রকাশ করা হবে। এরপর আমরা কাল অফিস খুলে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ ঘোষণা করব।’

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তরের কথা থাকলেও তা এখনো জমা হয়নি।

উপাচার্যের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা আজ রাতে শেষ হবে। এ সময় সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দেন উপাচার্য। বর্তমানে ওই হলের আবাসিক শিক্ষক মো. মতিউর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রশাসনিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞ কাউকে হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। এ প্রক্রিয়ায় এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যা থেকে ক্যাম্পাসের সাংবাদিক ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। সাংবাদিকদের অন্যতম দাবি ছিল, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের নামে মামলা করতে হবে।

তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে ছিল, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে রাতেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং যাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিল করা। উপাচার্য এসব দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

এর আগে গত রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ছাত্রদলের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন। আহত সাংবাদিকেরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম-২ বলেন, ‘প্রতিবেদনের ড্রাফট সংশোধন এবং এর সঙ্গে কিছু সংযুক্তির কাজ চলছে। আমরা আশা করছি, রাতের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’