রাবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামাকে দিয়ে ক্লাস করানোর অভিযোগ

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

  রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে মামাকে দিয়ে পাঠদান করানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, তার পরিবর্তে মাদ্রাসায় ক্লাস নেন তার মামা আসমত আলী। এদিকে, দায়িত্ব পালন না করেও জীবন নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, নাফিউল ইসলাম জীবন তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। কিন্তু তিনি নিজে ক্লাস না নিয়ে অন্য একজনকে দিয়ে পাঠদান করান।

নাফিউল ইসলাম জীবন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক। তিনি আরবি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ছাড়া ২০২৫ সালের রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচন করেন তিনি। প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর বিষয়টি নিজেও স্বীকার করেছেন এই ছাত্রদল নেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার পারসওতা হযরত শাহ সুফি বাঘু দেওয়ান (রহ.) আলিম মাদ্রাসায় ২০২৫ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন নাফিউল ইসলাম জীবন। অভিযোগ অনুযায়ী, যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়মিত পাঠদান না করে তার মামা আসমত আলীকে দিয়ে ক্লাস করিয়ে আসছেন।

নিয়মিত ক্লাস নেন কি না, জানতে চাইলে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বজলুল করীম ঢাকা পোস্টকে বলেন, জীবনের পরিবর্তে অন্য একজন প্রক্সি ক্লাস নেন। জীবন জানিয়েছিল, তার মাস্টার্স শেষ হয়নি। তাই আপাতত অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাস করানোর ব্যবস্থা করেন তিনি।

এভাবে অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাস নেওয়ানো নিয়মের মধ্যে পড়ে কি না, জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, কমিটির কেউ এতে বাধা দেন না। তাদের পক্ষ থেকেও কেউ বাধা দিচ্ছেন না। এভাবেই তারা চালিয়ে নিচ্ছেন। তাদের লোকজনও কিছু বলেন না। শুরু থেকেই প্রক্সি ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। মাস্টার্স শেষ করলেই হয়তো জীবন নিয়মিত ক্লাস নেবেন। জীবনের পরিবর্তে কে ক্লাস নেন, জানতে চাইলে অধ্যক্ষ জানান, ওই ব্যক্তির নাম আসমত আলী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাফিউল ইসলাম জীবন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অনার্স শেষ করার পর ২০২৩-২৪ সালের দিকে নিবন্ধন আসে। তখন মনে হয়েছিল, এত ত্যাগ, জুলুম-নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও বসে আছেন। অন্তত নিজের ডাল-ভাতের ব্যবস্থা তো করতে হবে। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর নিবন্ধন পরীক্ষা হয়। সেখানে তিনি উত্তীর্ণ হন। পরে বাসায় জানালে পরিবার থেকে তাকে চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়।

তিনি আরও বলেন, রাকসু নির্বাচনের পর তিনি চাকরিতে যোগ দেন। তখনও তার মাস্টার্স শেষ হয়নি। বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানিয়ে মাস্টার্স শেষ করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন শিক্ষকেরা তাকে মাস্টার্স শেষ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। তবে ক্লাস বন্ধ রাখা সম্ভব নয় জানিয়ে কাউকে দিয়ে ক্লাস করানোর পরামর্শ দেন। তখন তাদের এলাকায় কামিল পাস করা একজন ছিলেন, যিনি সম্পর্কে তার মামা। তাকে নিজের পরিবর্তে ক্লাস নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। এভাবেই চলতে থাকে। বেতন যা পান, তার অর্ধেক তাকে দিতে হয় এবং বাকি অর্ধেক তিনি নেন।

বিষয়টি কেন আড়াল করা হয়েছিল, জানতে চাইলে নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, বিষয়টি আড়াল করে রাখার চেষ্টা করেছেন, কারণ এর সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টিও জড়িত। তার ভাষ্য, এটিকে পুরোপুরি বৈধ বলা যায় না, কারণ তার চাকরিটি অন্য একজন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। যেহেতু এভাবে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর কোনো নিয়ম নেই, তাই আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর নেব এবং তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’