পুলিশ পরিচয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের তল্লাশি, ক্যাম্পাসে এনে সমঝোতা

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  কুবি প্রতিনিধি

কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশি করার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাদের আচরণে সন্দেহ হলে ছিনতাইকারী সন্দেহে ওই তিনজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে ফেরার পথে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম ও তার বন্ধু অর্পের পথরোধ করেন তিন ব্যক্তি। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি শুরু করেন। এ সময় পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এমনকি পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

পরে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে ছিনতাইকারী সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। বাস থেকে নামানোর পর তাদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে তাদের প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করা হয়।

সেখানে জানা যায়, ওই তিনজনের মধ্যে একজন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা। অপরজন কনস্টেবল হানিফ এবং তৃতীয় ব্যক্তি পুলিশের সোর্স জাহিদ।

পরে প্রক্টর অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস তাদের পুলিশ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম বলেন, ‘আমি আর আমার বন্ধু অর্প হাঁটছিলাম। অর্প একটু সামনে ছিল। হঠাৎ তিনজন এসে আমাদের ঘিরে ধরেন। তাদের মধ্যে একজন অর্পের শার্টের কলার ধরে বলেন, “আমরা পুলিশ, আপনাদের চেক করব।” বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অর্পের পকেটে হাত দেন। পরে তারা আমাদের পরিচয় ও কোথায় থাকি, তা জানতে চান। আমরা নিজেদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের আইডি কার্ড দেখাতে বললে তারা তা না দেখিয়ে বারবার হ্যান্ডকাফ দেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একজন স্থানীয় ব্যক্তি এসে বলেন, পুলিশ হলেও এভাবে আচরণ করা উচিত নয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস এলে তাদের ওই বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি।’

তবে এএসআই শ্যামল সাহার ভাষ্য, তারা দুই শিক্ষার্থীকে দেখে তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এখানে উভয় পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল। পুলিশ সদস্যরাও তাদের পরিচয় দিতে চাননি। তাদের কাছে আইডি কার্ড ছিল না। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদেরও ভুল ছিল। তারা যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অথবা আমাদের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানাতেন, তাহলে ভালো হতো। তা না করে জোরপূর্বক তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা উচিত হয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আমরা একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছেছি। উভয় পক্ষই সেটি মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে।’

এ সময় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ‘উভয় পক্ষেরই ভুল ছিল। ঘটনাস্থলে যা হয়েছে, তখন যদি শিক্ষার্থীরা কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা থানায়, এমনকি ৯৯৯-এ কল দিলেও বিষয়টি সেখানেই সমাধান হয়ে যেত। ৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’

পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিতভাবে সমঝোতা সম্পন্ন হয়।