অভিনয়ের তিন দশকে আজও স্বতন্ত্র জাহিদ হাসান
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

কখনো হাসিয়েছেন, কখনো কাঁদিয়েছেন, আবার কখনো নীরব অভিব্যক্তিতেই দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছেন। চরিত্রের ভেতরে নিজেকে মিশিয়ে দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতায় কয়েক প্রজন্মের দর্শকের কাছে আপন হয়ে উঠেছেন অভিনেতা জাহিদ হাসান।
আজ ৪ অক্টোবর, তার জন্মদিন। ১৯৬৭ সালের এই দিনে সিরাজগঞ্জে জন্ম নেয়া এই অভিনেতা পা রাখলেন ৬০ বছরে।
জাহিদ হাসানের অভিনয়জীবনের শুরু মঞ্চে। সিরাজগঞ্জে বেড়ে ওঠার সময়ই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। পরে মঞ্চ থেকে টেলিভিশনে এসে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। নব্বইয়ের দশকে তার অভিনয় দর্শকের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ‘জীবন যেমন’, ‘সমাপ্তি’, ‘বিচ্ছু’সহ বিভিন্ন নাটক ও ধারাবাহিকে তার অভিনয় তাকে ছোটপর্দার পরিচিত মুখে পরিণত করে।
তবে জাহিদ হাসানের পরিচয় কেবল টেলিভিশন অভিনেতা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। বড় পর্দাতেও তিনি দেখিয়েছেন নিজের বহুমাত্রিকতা। ১৯৮৬ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর ২০০০ সালের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমায় অভিনয় তাকে এনে দেয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের স্বীকৃতি। পরবর্তী সময়ে ‘হালদা’ ও ‘সাপলুডু’র মতো সিনেমাতেও ভিন্নধর্মী চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।
অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবেও কাজ করেছেন জাহিদ হাসান। নাটক ও ধারাবাহিক পরিচালনায়ও রয়েছে তার নিজস্ব ছাপ। সবচেয়ে বড় কথা, কমেডি থেকে সিরিয়াস চরিত্র বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই তাকে আলাদা করেছে।
ব্যক্তিজীবনেও জাহিদ হাসান বরাবরই পরিবার ও কাছের মানুষদের গুরুত্ব দিয়েছেন। স্ত্রী অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ এবং দুই সন্তানকে নিয়ে তার পারিবারিক জীবনও দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের আগ্রহের বিষয়। জন্মদিন নিয়েও তার ভাবনা কিছুটা সাদামাটা বড় আয়োজনের চেয়ে কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ছয় দশকের জীবনে অভিনয়কে পেশার পাশাপাশি ভালোবাসায় পরিণত করেছেন জাহিদ হাসান। সময় বদলেছে, দর্শকের রুচি বদলেছে, বিনোদনের মাধ্যমও বদলেছে। কিন্তু তার অভিনয়ের প্রতি দর্শকের আগ্রহ কমেনি। মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র কিংবা নতুন প্রজন্মের ওটিটি—সব মাধ্যমেই নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। তাই বয়স ৬০ হলেও অভিনয়ের মঞ্চে জাহিদ হাসান যেন এখনো একই রকম তরুণ, প্রাণবন্ত ও প্রাসঙ্গিক।
