অনলাইন সংস্করণ
১২:৫৩, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
কথায় আছে— সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। বলিউড আইটেম গার্ল নোরা ফাতেহির যেন তাই হয়েছে। ২০০ কোটি রুপি অর্থ আত্মসাৎ মামলা্র আসামী সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে অতি ঘনিষ্ঠতাই যেন কাল হয়েছে তার জন্য। এরইমধ্যে একাধিকবার পুলিশের জেরার সম্মুখীন হয়েছেন। এবার ফের দিল্লির আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়েছে মরোক্কান সুন্দরীকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, সুকেশের সঙ্গে সখ্যতার কথা নোরা মুখ ফসকেও বলেননি কখনও। তবে সুকেশ একাধিকবার জানিয়েছেন দিলবার গার্লের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা। গেল আগস্টে তো এক খোলা চিঠিতে রীতিমতো বোমা ফাটান। ভাইরাল ওই চিঠিতে নোরার সঙ্গে অন্তরঙ্গতার পাশাপাশি একাধিক অভিযোগও আনেন।
সুকেশ দাবি করেন, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একটি বাড়ি কিনতে নোরাকে কয়েক কোটি রুপি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া মাঝে মাঝেই দিয়েছেন আকাশচুম্বী দামের সব উপহার। এরমধ্যে রয়েছে নামি ব্র্যান্ডের ব্যাগ, প্রসাধনী, বিলাসবহুল গাড়ি প্রভৃতি। এখানেই থামেননি সুকেশ। নোরার কপাল পোড়াতে যা কিছু প্রয়োজন বলেছেন সে চিঠিতে। ফাঁস করেন দুজনের ব্যক্তিগত আলাপ। তাদের হোয়াটস্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন ওই চিঠিতে।
এদিকে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ বলতে পাগল সুকেশ। কারাগারে থাকা অবস্থায়ই অভিনেত্রীকে আঙুর বাগান কিনে দিয়েছেন তিনি। বোঝাই যাচ্ছে টানের গভীরতা। সুকেশের দাবি সেখানেও ঘুনপোকার ভূমিকা পালন করতে চেয়েছিলেন নোরা। জ্যাকুলিনকে হিংসা করতেন আইটেম গার্ল। তার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করতে সুকেশকে উসকাতেন। এছাড়া দিনে দশবার ফোন দিয়ে নিজের বিলাসী জীবনযাপনের জন্য মোটা অর্থ চাইতেন।
এসব সামনে আসতেই প্রশাসন ফের লেগেছে নোরার পেছনে। তবে এবার আর তাকে অপরাধীর চোখে দেখছে না। সাক্ষী হতে বলছে। আগামী ২ নভেম্বর দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে নোরা ফতেহিকে ‘সরকারী সাক্ষী’ হিসেহে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তৃতীয় চার্জশিটে সাক্ষী হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ নিয়ে নোরার কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে গেল আগস্টে মুখ খুলেছিলেন তিনি। সে সময় মামলায় নাম জড়াতেই কেঁদেকেটে ভাসিয়েছিলেন। দাবি করেছিলেন সুকেশের সঙ্গে নাম জড়াতেই হুমকির মুখে পড়েছে তার ক্যারিয়ার। হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে একের পর এক কাজ। নামি বিজ্ঞাপন সংস্থাও কাজ থেকে বাদ দিয়েছে তাকে।