অনেকগুলো বউ আমাকে ছেড়ে চলে গেছে: প্রসেনজিৎ

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:০২ | অনলাইন সংস্করণ

তিন দশকের বেশি সময় ধরে ওপার বাংলার চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা চরিত্রে দর্শকের সামনে হাজির হয়েছেন তিনি। একসময় তার হাত ধরেই বাংলা সিনেমার বক্স অফিসে ফিরেছিল প্রাণচাঞ্চল্য। দর্শকের ভালোবাসায় পেয়েছেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’ তকমাও।

পেশাগত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেও ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন এই অভিনেতা। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুখের সংসার করছেন তিনি। তবে তাদের সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্পিতার সঙ্গে নিজের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে কথা বলেন প্রসেনজিৎ। এ সময় আগের দুই দাম্পত্যের প্রসঙ্গ টেনে রসিকতার সুরে বর্তমান স্ত্রী অর্পিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসেনজিতের কথায়, ‘অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়, মানে আমার স্ত্রীকে সম্মান করি একটা জায়গায় যে, ও সহ্য করে এতদিন আমার সঙ্গে রয়ে গেছে। কারণ অনেকগুলো বউ আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, ও এখনো যায়নি! ও আমাকে সহ্য করেছে। অর্পিতাকে আমি ভালোবাসি এবং ভীষণ সম্মান করি। আর ও খুব ভালো একজন অভিনেত্রীও বটে।’

প্রসেনজিতের ব্যক্তিগত জীবনেও বিয়ে ও বিচ্ছেদের অধ্যায় রয়েছে। জীবনে তিনবার বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এই অভিনেতা। ১৯৯২ সালে দেবশ্রী আর প্রসেনজিতের বিয়ে হয়েছিল। অভিনয় সূত্রে দুজনের ভালো সম্পর্ক ছিল। দুজনেরই তখন আকাশছোঁয়া নাম। বিয়ের পর প্রসেনজিৎ চেয়েছিলেন দেবশ্রী গৃহবধূর মত পরিবার সামলাক। সে নিয়েই মনোমালিন্য ও বিচ্ছেদ। মাত্র ৩ বছর টিকেছিল ভালোবাসার ঘর।

এরপর তিনি বিয়ে করেন অপর্ণা গুহঠাকুরতাকে। শোনা যায় দুজনের একটি সন্তানও রয়েছে। ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে ছিলেন অপর্ণা। দুজনের এক সন্তান হয় যার নাম প্রেরণা।

হঠাৎ শুরু হয় সমস্যা। শোনা যায় তখন বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। প্রেমে পড়েছিলেন অভিনেত্রী অর্পিতা পালের। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে স্বামীর পরকীয়া মেনে নিতে পারেননি অপর্ণা। তিনি বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন। ২০০২ সালে ভেঙে গেল সেই সম্পর্ক। এখন আর মেয়ে বা স্ত্রীর সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই অভিনেতার।

দ্বিতীয় বিচ্ছেদের পর সে বছরেই অর্পিতাকে বিয়ে করেছিলেন প্রসেনজিৎ। বর্তমানে তৃতীয় স্ত্রী এবং ছেলে মিশুককে নিয়ে ভালো সময় কাটান বুম্বাদা। দুই দশকের সংসারে আছে সুখ ও প্রেম।

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে অর্পিতার পাশে থাকার বিষয়টি যে প্রসেনজিতের কাছে বিশেষ গুরুত্ব রাখে, সাক্ষাৎকারে তার বক্তব্যে সেটিই উঠে এসেছে। আগের সম্পর্কের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেই বর্তমান স্ত্রীকে ভালোবাসা ও সম্মানের কথা জানিয়েছেন তিনি।