অপো আনছে ১৬ জিবি র্যামের নতুন ফোন
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

অপো ফাইন্ড এক্স১০ সিরিজের লঞ্চের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে কোম্পানি। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর চীনে নতুন এই সিরিজটি আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। এই সিরিজে থাকছে অপো ফাইন্ড এক্স১০, ফাইন্ড এক্স১০ প্রো ম্যাক্স এবং ফাইন্ড এক্স১০ই। একই অনুষ্ঠানে অপো ওয়াচ এস২ এবং এনকো এক্স৪-ও লঞ্চ হতে পারে। তবে এই সিরিজটি ভারতীয় বাজারে আসছে কি না, তা নিয়ে অফিসিয়ালি এখনও কিছু জানানো হয়নি এবং বাংলাদেশের বাজারে আসবে কি না, তা তো সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। ইতিমধ্যেই চীনে এই সিরিজের প্রি-রিজ়ার্ভেশন শুরু হয়ে গিয়েছে। লঞ্চের আগেই ফোনগুলোর ডিজাইন, র্যাম, স্টোরেজ এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে অপো।
লঞ্চ অনুষ্ঠানটি চীনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় এবং ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। ফাইন্ড এক্স১০, ফাইন্ড এক্স১০ প্রো ম্যাক্স এবং ফাইন্ড এক্স১০ই মডেলগুলোর সঙ্গে অপো ওয়াচ এস২ এবং এনকো এক্স৪-এর আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। রঙের বিকল্পের ক্ষেত্রেও বেশ বৈচিত্র্য রাখা হয়েছে। ফাইন্ড এক্স১০ প্রো ম্যাক্স পাওয়া যাবে ওয়ার্ম অরেঞ্জ, মুন হোয়াইট এবং লাইট টাইটানিয়াম রঙে। স্ট্যান্ডার্ড ফাইন্ড এক্স১০-এ লাইট টাইটানিয়ামের পাশাপাশি আইস ব্লু এবং কিংচেং রঙের বিকল্প থাকবে, যার মধ্যে কিংচেং সংস্করণটি কমলা রঙের ফিনিশে দেখা গিয়েছে। ফাইন্ড এক্স১০ই মডেলে আইস ব্লু এবং লাইট টাইটানিয়াম রঙ মিলবে। পাশাপাশি অপো ওয়াচ এস২ আসবে ভাইব্র্যান্ট অরেঞ্জ, মিস্টি পাউডার এবং মাউন্টেন শ্যাডো গ্রে রঙে এবং এনকো এক্স৪ পাওয়া যাবে পিঙ্ক গোল্ড, সফট হোয়াইট ও টাইটানিয়াম গ্রে রঙে।
র্যাম ও স্টোরেজের দিক থেকে অপো ফাইন্ড এক্স১০ এবং ফাইন্ড এক্স১০ প্রো ম্যাক্সে একাধিক বিকল্প রাখা হয়েছে। মডেল দুটিতে ১২ জিবি বা ১৬ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি বা ১ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ কনফিগারেশন নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ফাইন্ড এক্স১০ই মডেলে ১২ জিবি র্যামের সঙ্গে ২৫৬ জিবি এবং ১৬ জিবি র্যামের সঙ্গে ৫১২ জিবি স্টোরেজ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ এই সিরিজের টপ মডেলগুলিতে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে।
ডিজাইনের ক্ষেত্রে ফাইন্ড এক্স১০ এবং ফাইন্ড এক্স১০ই মডেলের পিছনের দিকটা অনেকটাই একই রকম, যেখানে গোলাকার কোণযুক্ত চৌকো ক্যামেরা মডিউলে তিনটি ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশ রয়েছে। তবে স্ট্যান্ডার্ড ফাইন্ড এক্স১০-এ ফ্ল্যাশটি ক্যামেরা মডিউলের বাইরে রাখা হলেও ফাইন্ড এক্স১০ই মডেলে তা মডিউলের ভেতরেই রয়েছে। অন্যদিকে ফাইন্ড এক্স১০ প্রো ম্যাক্সের ডিজাইন একটু আলাদা, যাতে তিনটি ক্যামেরার জন্য বড় আয়তাকার ক্যামেরা মডিউল এবং তার নিচে আলাদা অংশে ফ্ল্যাশ ও একটি সেন্সর রাখা হয়েছে। তিনটি ফোনেই ফ্ল্যাট ফ্রেম এবং গোলাকার কোণ দেওয়া হয়েছে।
ক্যামেরার দিক থেকে এই সিরিজটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে। ফাইন্ড এক্স১০ মডেলে পিছনে দুটি ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং ফাইন্ড এক্স১০ প্রো ম্যাক্স মডেলে তিনটি ২০০ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা থাকবে। অপো এবং হাসেলব্লাড যৌথভাবে এই ক্যামেরা হার্ডওয়্যার তৈরি করেছে, যেখানে দ্বিতীয় প্রজন্মের দানশিয়া কালার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। ডিসপ্লের ক্ষেত্রে ফাইন্ড এক্স১০ মডেলে তিয়ানমার সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি টিয়াংগং স্ক্রিন ২.০ ওএলইডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হবে, যা কম আলোয় ভালো পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। এছাড়া ফাইন্ড এক্স১০ ও ফাইন্ড এক্স১০ প্রো ম্যাক্স মডেলে সর্বোচ্চ ৮০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের বড় ব্যাটারি থাকতে পারে, যা প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত টেকসই জীবন দিতে পারে বলে সংস্থার দাবি।
প্রসেসরের ক্ষেত্রে ফাইন্ড এক্স১০ মডেলে ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৯৬০ইএম চিপসেট থাকার কথা। অন্যদিকে ফাইন্ড এক্স১০ প্রো ম্যাক্স মডেলে আরও উন্নত ২ ন্যানোমিটার মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৯৬০ প্রো চিপসেট থাকতে পারে, যা এই ব্র্যান্ডের প্রথম ২ ন্যানোমিটার ডাইমেনসিটি চিপ হতে চলেছে। তবে ফাইন্ড এক্স১০ই মডেলে কোন প্রসেসর ব্যবহার করা হবে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ২২ সেপ্টেম্বরের লঞ্চ অনুষ্ঠানে এই ডিভাইসগুলোর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন এবং দাম প্রকাশ্যে আসার পরেই সিরিজের সামগ্রিক চিত্রটি পরিষ্কার হবে।
