লেবাননে ফিলিস্তিনি শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ১৩

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হামাস এই ঘটনাকে বর্বর আগ্রাসন বলে আখ্যায়িত করেছে, অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে তারা হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালিয়েছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানায়, মঙ্গলবার উপকূলীয় শহর সাইদার কাছে আইন আল-হিলওয়ে শরণার্থী শিবিরে একটি মসজিদের পার্কিং লটে থাকা গাড়িতে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন এবং আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, শিবিরের ভেতরে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে তৎপরতা চালানো হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করেই তারা হামলা করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদ্রেয়ি এক বিবৃতিতে বলেন, উত্তরের সীমান্তে কোনো ধরনের হুমকি তারা বরদাস্ত করবে না। ওই অঞ্চলে সক্রিয় সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই তাদের লক্ষ্যবস্তু। লেবাননে হামাসের উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলার যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

হামাস অবশ্য ইসরায়েলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটি বলেছে, শরণার্থী শিবিরে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। তারা হামলাকে নিরীহ ফিলিস্তিনি জনগণ এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর বর্বর আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে।

এর আগে মঙ্গলবার লেবানন জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের অন্য এলাকায় ইসরায়েল দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং সেখানে দুজন নিহত হন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই লেবাননে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি সংগঠনের নেতাদের টার্গেট করে একাধিক হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৪৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ৭০৬ জন আহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর একদিন পর থেকেই লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়া শুরু করে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল লেবাননে গোলাবর্ষণ ও বোমা হামলা চালায়। ক্রমে এই সংঘাত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে পরিণত হয়। সে যুদ্ধে লেবাননে চার হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে শত শত বেসামরিক লোক ছিলেন। ইসরায়েলে নিহত হন ১২৭ জন, যার ৮০ জনই সেনা।

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত ২৭০ জনের বেশি নিহত এবং প্রায় ৮৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক করিম এমিল বিতার আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। এই পরিস্থিতিতে লেবানন সরকারকে দায়ী করা ঠিক নয়। সরকার দায়িত্বের বাইরেও অতিরিক্ত উদ্যোগ নিয়ে সেনাবাহিনীকে দিয়ে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী ইসরায়েলের ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করার কথা থাকলেও তারা সেই সময়সীমা মানেনি।