বিশ্বে ক্ষুধা মোকাবিলায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি: ডব্লিউএফপি
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে, অর্থায়ন কমে যাওয়ায় ২০২৬ সালে তীব্র ক্ষুধার মুখে থাকা ৩১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশকে খাদ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে। রোম থেকে এএফপি জানায়, মঙ্গলবার ডব্লিউএফপির এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সংস্থাটি প্রায় ১১ কোটি মানুষের খাদ্য সহায়তায় অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে আনুমানিক ১৩ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। তবে ডব্লিউএফপি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান অর্থায়নের পূর্বাভাস অনুযায়ী লক্ষ্যকৃত অর্থের অর্ধেকের কাছাকাছি পাওয়া যেতে পারে।
ডব্লিউএফপির সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর অধীনে বিদেশি সহায়তা কমিয়ে দিয়েছেন। অন্যান্য বড় দাতা, বিশেষ করে অনেক ইউরোপীয় দেশও মানবিক বাজেট কমিয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, সংঘাত, চরম আবহাওয়া এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ২০১৯ সালের তুলনায় তীব্র ক্ষুধার মুখোমুখি মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৩১ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো এ বছর গাজা ও সুদানের কিছু অংশে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে। ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক সিন্ডি ম্যাককেইন একে একবিংশ শতাব্দীতে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।
২০২৬ সালের গ্লোবাল আউটলুক প্রতিবেদনের ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, বিশ্বের প্রতিক্রিয়া ধীর, বিচ্ছিন্ন এবং অর্থায়নহীন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিশ্বব্যাপী সহায়তা এখন মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম পূরণ করছে। খাদ্য সহায়তায় ব্যাপক কাটছাঁট হয়েছে, প্রায় সব কার্যক্রমেই খাদ্য ও নগদ অর্থ কমাতে হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হতে হয়েছে। একই সময়ে সহায়তা কর্মীদের ওপর হামলা বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি ক্রমবর্ধমান অবহেলা প্রকাশ করছে।
২০২৬ সালে ক্ষুধার মুখে থাকা মানুষের মধ্যে ৪১ মিলিয়নকে জরুরি বা তারও বেশি সংকটাপন্ন অবস্থায় শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ডব্লিউএফপি এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) হাইতি থেকে দক্ষিণ সুদান পর্যন্ত ১৬টি ক্ষুধার হটস্পট চিহ্নিত করেছে। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তহবিল ঘাটতি ইতোমধ্যেই পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এক যৌথ প্রতিবেদনে ডব্লিউএফপি ও এফএও জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ২৯ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে সংগঠনগুলো এখন পর্যন্ত মাত্র ১০.৫ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।
