হাত মেলানোর দু’দিন পরই পাকিস্তানকে জয়শঙ্করের হুমকি
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক। শোকের আবহেই দক্ষিণ এশিয়ার দুই বৈরি প্রতিবেশীর প্রতিনিধিদের মধ্যে আলাপ হয়। ছড়িয়ে পড়ে তাদের করমর্দনের ছবি। কিন্তু সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপের দুদিন পরই পাকিস্তানকে নিয়ে কুৎসা শোনা গেল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কণ্ঠে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ আখ্যা দিয়ে জয়শঙ্কর বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার ভারতের রয়েছে। চেন্নাইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি), মাদ্রাজে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কী করা উচিৎ বা উচিৎ নয়—এ কথা আমাদের কেউ বলে দিতে পারে না।’
জয়শঙ্কর বলেন, ‘খারাপ প্রতিবেশীও থাকতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের তেমন প্রতিবেশী আছে। পশ্চিমের দিকে তাকালে দেখা যায়, যদি কোনো দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং অনুশোচনা ছাড়াই সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার আমাদের রয়েছে। আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘কীভাবে আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব, তা আমাদের বিষয়। নিজেদের রক্ষার জন্য যা করা দরকার, আমরা তাই করব।’
পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘বহু বছর আগে আমরা পানিবণ্টনের একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলাম। কিন্তু যদি দশকের পর দশক ধরে সন্ত্রাসবাদ চলে, তাহলে ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক থাকে না। আর ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক না থাকলে, সেই সম্পর্কের সুবিধাও পাওয়া যায় না। আপনি একদিকে বলবেন, আমার সঙ্গে পানি ভাগ করুন, আর অন্যদিকে আমার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ চালাবেন। এই দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের জুনে সীমান্ত সংঘাতের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন তলানিতে। তবে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের স্পিকারের সাক্ষাতে সম্পর্কে উন্নতির আশা করেছিলেন। দু’দিন পরই তাদের সে আশায় পানি ঢেলে দিলেন জয়শঙ্কর।
