ট্রাম্পের হুমকি জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন : তেহরান
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আবার এই হুমকিকে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে তেহরান।
একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের নিন্দা জানানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) সভাপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের যদি ইরান গুলি করে ও সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত, যেকোনো সময় ইরানে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।’
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই রাষ্ট্রদূত ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও ইউএনএসসির সদস্যদের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে এসব মন্তব্যকে ‘বেপরোয়া ও উসকানিমূলক’ আখ্যা দেন।
একইসঙ্গে এসব বক্তব্যকে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
চিঠিতে ইরাভানি বলেন, ‘বহিঃচাপ বা সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত হিসেবে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দেওয়া, উৎসাহিত করা বা বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা ইরানের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জাতিসংঘ মহাসচিবকে পাঠানো চিঠিটির পূর্ণ পাঠ প্রকাশ করেছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ইরান সরকার ‘নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বাভাবিক অধিকার পুনর্ব্যক্ত করছে এবং সে অধিকার ‘দৃঢ় ও আনুপাতিকভাবে প্রয়োগ করবে’। পাশাপাশি ইরাভানি সতর্ক করে বলেন, ‘এই অবৈধ হুমকি এবং এর ফলে উদ্ভূত যেকোনো উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিণতির সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রের।’
আবা/এসআর/২৫
