ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিলে ট্রাম্পের সম্মতি
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৭ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার তেল আমদানি করে—এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিলে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবিত এ আইনের মাধ্যমে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেতে পারে হোয়াইট হাউজ। এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সাউথ ক্যারোলাইনার এই সিনেটর জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট এ দ্বিদলীয় বিলের বিষয়ে সম্মতি বা ‘গ্রিনলাইট’ দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে যৌথভাবে উত্থাপিত বিলটির নাম ‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট’। এটি পাস হলে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর আমদানির ওপর উচ্চমাত্রার শুল্ক আরোপের এখতিয়ার পাবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
এক বিবৃতিতে গ্রাহাম বলেন, এই বিলের মাধ্যমে সেসব দেশকে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে, যারা স্বল্পমূল্যে রুশ তেল কিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ কার্যক্রমে অর্থ জোগাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীন, ভারত ও ব্রাজিলের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে বাধ্য করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য—যে তেল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রুশ তেলের বড় ক্রেতা চীন ও ভারত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে চীন ও ভারত তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। জ্বালানি ও পরিবেশ গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৫০ শতাংশ কিনেছে চীন, আর ভারতের অংশ ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ব্রাজিলও রুশ তেলের আমদানি বাড়ালেও সাম্প্রতিক সময়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর এ উদ্যোগ এমন সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রস্তাবিত বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রতি সমর্থন জানায়। এসব প্রস্তাবে যুদ্ধ-পরবর্তী অস্ত্রবিরতি তদারকি এবং ইউরোপের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে রাশিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইউক্রেনে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনা মোতায়েন তারা মেনে নেবে না। এ বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া এখনো পাওয়া যায়নি।
গ্রাহামের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শান্তির স্বার্থে ইউক্রেন ছাড় দিচ্ছে, অথচ পুতিন কেবল প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন—যুদ্ধ ও প্রাণহানি অব্যাহত রেখেছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
