ইরানে বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীর ‘রেড লাইন’ ঘোষণা
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:২৫ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চলমান বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তারা নিরাপত্তাকে 'রেড লাইন' বা সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সামরিক বাহিনী সরকারি সম্পদ ও জননিরাপত্তা রক্ষার অঙ্গীকার করেছে।
শনিবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতেতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “গত দু’রাত ধরে সন্ত্রাসীরা সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ঘাঁটিগুলো দখলের চেষ্টা করছে, বেশ কয়েকজন নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা-কর্মীকে হত্যা করেছে এবং সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করছে। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির নিরাপত্তার স্বার্থে আইআরজিসি ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতির চেষ্টা করলেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং শত্রু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দেশের জননিরাপত্তাকে দুর্বল করার চেষ্টার অভিযোগ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সর্বোচ্চ কমান্ডার-ইন-চিফের নেতৃত্বে বাহিনী, অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সাথে, এই অঞ্চলে শত্রুদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি, জাতীয় স্বার্থ, দেশের কৌশলগত অবকাঠামো এবং জনসাধারণের সম্পত্তি দৃঢ়ভাবে রক্ষা এবং সুরক্ষিত করবে।’
প্রসঙ্গত, বছরের পর বছর ধরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েলের অবনতি, তার জেরে অসহনীয় মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় নাভিশ্বাস উঠছিল ইরানের সাধারণ জনগণের। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।
তবে তেহরান কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে আসছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অস্থিরতা দমনে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা বজায় রেখেছে। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের এক প্রত্যক্ষদর্শী ফোনে জানিয়েছেন, রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংবাদ সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভ ৪৮ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে পাঁচজন শিশু এবং আটজন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে আরও দুই হাজার ২৭৭ জন বিক্ষোভকারীকে। আর নয়জন শিশুসহ কমপক্ষে ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস বা আইএইচআর।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি
আবা/এসআর/২৫
