বাংলাদেশ-চীনের উপর নজরদারি রাখতে নতুন নৌঘাঁটি করছে ভারত

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

ভারত বাংলাদেশ ও চীনকে নজরদারিতে রাখতে নতুন একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বন্দরনগরী হলদিয়ায় এই নৌঘাঁটি নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া তথ্যে নৌবাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে চীনা নৌবাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের একাধিকবার পাকিস্তান সফরের বিষয়টিও ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত নৌঘাঁটিটি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হবে। হলদিয়ায় ঘাঁটি স্থাপন করা হলে হুগলি নদীপথ ব্যবহার করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পারবে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ও নৌ-সেনারা।

নৌঘাঁটি নির্মাণের ক্ষেত্রে হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে নৌবাহিনীর অপারেশন পরিচালনা সহজ হবে, অন্যদিকে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও তুলনামূলকভাবে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতীয় নৌবাহিনী সূত্র জানায়, নতুন ঘাঁটিতে একাধিক ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটস এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফটস মোতায়েন করা হবে। এসব দ্রুতগামী সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজের গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নট, অর্থাৎ প্রায় ৭৪ থেকে ৮৩ কিলোমিটার।

এফআইসি ও এনডব্লিউজেএফএসি সিরিজের এসব যুদ্ধজাহাজকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সামরিক নৌযান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এগুলোতে সিআরএন-৯১ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান এবং ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সুইসাইডাল ড্রোন ‘নাগাস্ত্র’ সিস্টেমসহ বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র সংযোজন করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, প্রস্তাবিত এই নৌঘাঁটিতে সার্বক্ষণিকভাবে প্রায় ১০০ জন সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিক মোতায়েন থাকবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক চুক্তি এবং চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘন ঘন যোগাযোগের প্রেক্ষাপটেই ভারতের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে