‘হিন্দুই হবে প্রধানমন্ত্রী’ মন্তব্যে উত্তাল ভারত, হিমন্তকে তীব্র আক্রমণ ওয়াইসির
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

‘হিন্দুই হবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী’—আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মন্তব্যটির তীব্র সমালোচনা করে অল ইন্ডিয়ান মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, হিমন্ত বিশ্বশর্মার মাথায় টিউবলাইট রয়েছে এবং তিনি ভারতের সংবিধানের মর্ম বুঝতে অক্ষম।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, ভারতের সংবিধান স্পষ্টভাবে বলেছে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের অধিকার খর্ব করা যায় না। বাবাসাহেব আম্বেদকরের রচিত সংবিধান অনুযায়ী দেশের যে কোনো নাগরিক প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মেয়র হতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি এমন এক দিনের স্বপ্ন দেখেন, যেদিন হিজাব পরা কোনো নারীও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন।
এর আগে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা মন্তব্য করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে সব সময়ই একজন হিন্দু ব্যক্তিই বসবেন। এই বক্তব্যকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
ওয়াইসির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, সংবিধানে কোনো বাধা নেই, যে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে তার দাবি, ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র এবং হিন্দু সভ্যতার ধারক, সে কারণেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী সব সময় একজন হিন্দুই হবেন।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা এ প্রসঙ্গে বলেন, ওয়াইসি যদি হিজাব পরা নারীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, তাহলে আগে নিজের দল এআইএমআইএমের সভাপতি পদে কোনো হিজাব পরা নারীকে নির্বাচিত করুন।
এই মন্তব্যের পালটা দিতে গিয়ে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান ওয়াইসি। তিনি বলেন, হিমন্ত বিশ্বশর্মার মাথায় টিউবলাইট রয়েছে। তার বক্তব্য, বাবাসাহেব আম্বেদকর হিমন্ত বিশ্বশর্মার তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান ছিলেন বলেই এমন একটি সংবিধান রচনা করেছিলেন, যা সকল নাগরিককে সমান অধিকার দেয়।
ওয়াইসি দাবি করেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মানসিকতা অত্যন্ত সংকীর্ণ, যার কারণেই তিনি সংবিধানবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। তার মতে, আজও অনেক রাজনৈতিক নেতা ভারতের সংবিধান বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
বিজেপির বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ওয়াইসি বলেন, এই সরকার মুসলিম নারীদের হিজাব পরার অধিকারেও হস্তক্ষেপ করছে।
তার দাবি, ঘৃণার রাজনীতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং দেশের মানুষ একদিন এর জবাব দেবে। তবে শেহজাদ পুনাওয়ালার মন্তব্য নিয়ে আলাদাভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পদকে ঘিরে ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে এই বাকযুদ্ধ নতুন করে ভারতের রাজনীতিতে সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
