আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫২ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইটের উঠানামা ব্যতীত সব ধরনের বিমান চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরে প্রকাশিত দেশটির সরকারি এভিয়েশন নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
‘নোটিশ টু এয়ার মিশনস’ (এনওটিএএম) এক বিবৃতিতে জানায়, তেহরানের আকাশসীমা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ে কেবল ইরানের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পূর্বানুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইট চলাচল করতে পারবে। অন্যান্য সব ধরনের উড্ডয়ন স্থগিত থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা ইরানে প্রবেশকারী ও ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট— উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সামরিক বা অভ্যন্তরীণসহ অন্যান্য কোনো বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।
বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
এদিকে জি-৭ জোটভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃত সহিংসতা’ ব্যবহারের নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ইরান সরকারকে সংযম প্রদর্শন, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং পরিস্থিতি উত্তরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, চলমান বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ রয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিক্ষোভ ঘিরে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, ডিসেম্বরের শেষ দিকে আন্দোলন শুরুর পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।সূত্র: আনাদোলু
