নোবেলের বিনিময়ে মাচাদোকে ব্যাগ উপহার দিলেন ট্রাম্প
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২১ | অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক তুলে দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। বিনিময়ে তিনি পেয়েছেন ট্রাম্পের নামখচিত একটি উপহারব্যাগ।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর ব্যাগটি নিয়ে মাচাদোকে হোয়াইট হাউজ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। লাল রঙের ব্যাগটিতে সোনালি অক্ষরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের ছাপ রয়েছে। উপহারের ব্যাগে কী ছিল, তা এখানো জানা যায়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, মাচাদো আশা করেছিলেন এই পদক তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু এনে দিতে পারে। বিশেষ করে মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট সমর্থন। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি— ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের বিষয়ে মাচাদোর প্রতি ট্রাম্পের আগের অবস্থান এখনো বদলায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাচাদো অন্যতম নাম হলেও ট্রাম্প দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়ে আসছেন।
এদিকে হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে মাচাদো বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য ঐতিহাসিক একটি দিন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেলটি তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছি।’ তার ভাষ্য, এটি ছিল ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার পক্ষে ট্রাম্পের ‘বিশেষ অঙ্গীকারের স্বীকৃতি’।
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক মার্কিন জেনারেল সিমন বলিভারকে একটি মেডেল দিয়েছিলেন- যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে। সেই ইতিহাস স্মরণ করেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মেডেল দিয়েছি।’
তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয় মাচাদোর আশাবাদী বক্তব্য সত্ত্বেও একটি ছবির সুযোগ এবং ট্রাম্পের দেওয়া সরকারি উপহারের ব্যাগ ছাড়া তিনি বাস্তবে কী অর্জন করেছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানান, মাচাদোর বিষয়ে ট্রাম্পের মূল্যায়নে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন প্রেসিডেন্ট মাচাদোর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা প্রত্যাশা করেছিলেন এবং তাকে ভেনেজুয়েলার বহু মানুষের জন্য সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখেন। তবে একইসঙ্গে তিনি জানান ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মাচাদোর প্রয়োজনীয় সমর্থন নেই এমন অবস্থানেই ট্রাম্প অটল রয়েছেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প বহু আকাঙ্খিত নোবেল পদক পাওয়ার পর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘এই পুরস্কার পারস্পরিক শ্রদ্ধার চমৎকার নিদর্শন।’
এর আগে এই বিরোধীদলীয় নেত্রী তার ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। তার এমন মন্তব্যের পর নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট জানিয়েছিল, ‘একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষিত হওয়ার পর তা প্রত্যাহার করা, ভাগ করা বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং চিরস্থায়ী।’ ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকার জন্য মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়।
