ইরানকে নজরে রাখতে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

ইরানকে ‘নজরে রাখতে’ দেশটির উদ্দেশে যুদ্ধজাহাজের একটি বড় বহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উদ্দেশে একটি আর্মাদা বা যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আপাতত কোনো সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা যাচ্ছে না এবং এই বহর ব্যবহার করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে ইরানকে নিবিড় নজরদারিতে রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমান বহনকারী রণতরি ইউএসএস আব্রাহামসহ বেশ কয়েকটি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এসব যুদ্ধজাহাজ ইরানের উপকূলের আশপাশে অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন তারা।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, অদূর ভবিষ্যতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে আগাম সতর্কতা হিসেবে যুদ্ধজাহাজের বহরে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরকও বহন করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, গত সপ্তাহেই এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল থেকে এই যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইরানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকে। গত বছরের জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতও হয়।
এ ছাড়া গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করলে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভ দমনে যদি তেহরান নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করে, তবে নতুন করে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই সামরিক অভিযান না হলেও যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশ। সূত্র: রয়টার্স
