বেলুচিস্তানে ৪০ ঘণ্টার অভিযানে ১৪৫ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে টানা ৪০ ঘণ্টার নিরাপত্তা অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটাসহ গাওদার, মাসতাং ও নোশকি জেলায় বন্দুক ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় মোট ৪৮ জন নিহত হন। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বাকি ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শনিবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, হামলাকারীরা সাধারণ বেসামরিক পোশাকে ছিল এবং জনবহুল এলাকায় ছদ্মবেশে মিশে গিয়েই তারা হামলা চালায়।
এ ঘটনার দায় স্বীকার করে ৩০ জানুয়ারি বিবৃতি দেয় পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বেলুচ স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সংগঠনটি জানায়, ‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’-এর অংশ হিসেবে ২৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
বিএলএ প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশনে শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।
বিবৃতিতে বিএলএ দাবি করেছে, ওই অভিযানে তারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা এবং ১৮ জনকে আটক করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হামলার দায় স্বীকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে বিএলএ’র বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে মোট ৪০ ঘণ্টা ধরে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়, যেখানে ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন।
ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এটি দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলগুলোর একটি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই প্রদেশটিতে স্বাধীনতাকামী আন্দোলন সক্রিয় রয়েছে।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলন দমনে বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে ইসলামাবাদ। সাম্প্রতিক এই অভিযান সেই কঠোর নীতিরই প্রতিফলন। এর আগে এত স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হওয়ার নজির নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র : রয়টার্স
