ভারতীয় পণ্যে শুল্ক কমিয়ে ৫০ থেকে ১৮ শতাংশে নামালো যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৭ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে। একইসঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও নন-ট্যারিফ বাধা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে এই ঘোষণা দেন।
গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল এবং ভারতীয় রফতানি ব্যাপকভাবে কমে যায়। নতুন এই চুক্তিকে সেই উত্তেজনা প্রশমনের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, আলোচনায় বাণিজ্যের পাশাপাশি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন এবং এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবেন। এর ফলে দিল্লির বিরুদ্ধে রুশ তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক জরিমানা তুলে নেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত আগামী দিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কিনতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে থাকবে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য ও কয়লা। ট্রাম্পের মতে, এই সমঝোতা কেবল বাণিজ্যই নয়, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় চুক্তি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি ও বৃহত্তম গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করলে তা উভয় দেশের জনগণের জন্যই সুফল বয়ে আনে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই বড় ঘোষণা আসলেও চুক্তির বিস্তারিত তথ্য নিয়ে এখনও বেশ কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে, শুল্ক কমানোর সুনির্দিষ্ট শুরুর তারিখ, বাণিজ্যিক বাধাগুলো ঠিক কতদিনের মধ্যে কমিয়ে আনা হবে এবং ভারত ঠিক কোন কোন মার্কিন পণ্য কী পরিমাণে ক্রয় করবে–সেসব বিষয়ে ট্রাম্পের বার্তায় স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি।
আবা/এসআর/২৫
