যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না যুক্তরাজ্য

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

ইরানে সম্ভাব্য হামলা চালাতে মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে লন্ডনের টানাপোড়েন বেড়েছে এবং যুক্তরাজ্য সরকারকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিনের চুক্তি অনুযায়ী গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবস্থান করে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভারী বোমারু বিমান মোতায়েন থাকে। একইভাবে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া একটি যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য যৌথ বিমানঘাঁটি। তবে এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে হলে ব্রিটিশ সরকারের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন।

কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সম্ভাব্য সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য সেই অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য। দেশটির আশঙ্কা, সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া এমন হামলায় অংশ নিলে তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি ২০২৫ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরির সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর সংক্রান্ত যুক্তরাজ্যের চুক্তিরও বিরোধিতা করেছেন। ওই টেরিটরির আওতায় ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ও চাগোস দ্বীপপুঞ্জ অন্তর্ভুক্ত।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, একটি অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শাসনের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দিয়েগো গার্সিয়া এবং ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত বিমানঘাঁটি ব্যবহার করা প্রয়োজন হতে পারে। এখানে অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শাসন বলতে তিনি ইরানকে ইঙ্গিত করেছেন।

এই বিরোধের সূত্রপাত হয়, ট্রাম্প যখন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দেওয়া তার আল্টিমেটাম বিষয়ে আলোচনা করেন। পরদিন তিনি প্রকাশ্যে চাগোস চুক্তি নিয়ে সমালোচনাকে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত করেন।

ট্রাম্পের দাবি, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুক্তরাজ্যের সমর্থন বৈধ হবে এবং ইরান যুক্তরাজ্য ও তার মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালাতে পারে।