তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় শেহবাজ শরিফ

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির ফিলিস্তিনবিষয়ক কার্যনির্বাহী সভার ফাঁকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং সুযোগ পেলে ঢাকা সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তিনি আশা করেন, নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে। আলোচনায় তিনি গত বছর প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন।

সভা চলাকালে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. আলখারেইজি, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আঘাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেরিং মোদু এনজি একই সঙ্গে নির্বাহী সভার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বৈঠকগুলোতে অংশ নেওয়া নেতারা মত দেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অবস্থানের প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা জানানো হয়।

তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় তুরস্কের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানায় বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়। পাশাপাশি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ আবারও জানায়, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্ত এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই টেকসই সমাধান। ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করা হয় এবং বলা হয়, জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ফিলিস্তিনের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার সক্রিয় ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। রোহিঙ্গাদের পক্ষে গাম্বিয়ার উদ্যোগে বাংলাদেশ সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়। আগামী এপ্রিলে বাগদাদে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিশেষ আয়োজনের বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়।

এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রাষ্ট্রদূত মোল্লা ফরহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম.জে.এইচ. জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।