চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা দেবে না যুক্তরাজ্য

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার এবং সুদান থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। এছাড়া, আফগান নাগরিকদের জন্য কর্মভিসাও স্থগিত করা হবে। যুক্তরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী মনোভাবের বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের আশ্রয় আবেদন বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। 

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) জানায়, প্রথমবারের মতো এই চার দেশের নাগরিকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভিসা দেওয়া বন্ধ করতে হচ্ছে। সম্প্রতি, এসব দেশের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয় আবেদন করার হার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব চার দেশের শিক্ষার্থীদের আশ্রয় আবেদন ৪৭০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের সব সময়ই আশ্রয় দেবে যুক্তরাজ্য। তবে আমাদের ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার হতে দেওয়া যাবে না। এ কারণেই আমি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। যেসব দেশের নাগরিক আমাদের উদারতার সুযোগ নিতে চাইছে, তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হবে।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অভিবাসন এখন একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে কট্টর ডানপন্থি দল "রিফর্ম ইউকে" জনমত জরিপে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার জনমত প্রশমিত করতে এবং অবৈধভাবে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য আশ্রয় প্রক্রিয়া কঠোর করেছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা পিএ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নতুন অভিবাসন বিধিতে পরিবর্তন আনা হবে এবং ভিসা নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। একই দিনে মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ কঠোর আশ্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দেবেন।

নতুন প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের শরণার্থী মর্যাদা প্রতি ৩০ মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। সরকার মনে করছে, এতে দেশটি আশ্রয়প্রার্থীদের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

হোম অফিস জানায়, ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীদের আশ্রয় আবেদন ২০ শতাংশ কমানো গেলেও, স্টাডি ভিসায় আসা ব্যক্তিরা এখনও মোট আশ্রয় আবেদনের ১৩ শতাংশ। তাই আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।

সূত্র: আল-জাজিরা