অবশেষে খামেনির মৃত্যুতে শোক জানালো ভারত
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ২২:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে শোক প্রকাশ করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।
গত রোববার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরই খামেনির মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে ইরান।
এর আগে তেহরান ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে। ওই ঘোষণার পরই বৃহস্পতিবার ভারতের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, তিনি এদিন বিকেলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ভারত শোকাহত বলে আরাঘচিকে জানান তিনি।
খামেনির মৃত্যুর কয়েক দিন পর ভারতের এই শোকপ্রকাশকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দিল্লির অবস্থানের সূক্ষ্ম পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানালেও শুরুতে ভারত এ বিষয়ে নীরব ছিল।
এমনকি বিরোধীদের জোরালো দাবির পরও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিয়ে কৌশলী নীরবতা বজায় রেখেছিল নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার।
পরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ভারত সব সময়ই এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আলোচনা ও কূটনৈতিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের জাহাজের জন্য বন্ধ থাকবে। জলপথে এসব দেশের বা তাদের সমর্থকদের কোনো জাহাজ দেখা গেলে সেগুলোতে হামলা চালানো হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
ভারতের বিরোধী দলগুলো এর আগে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেছিল। অতীতে ভারতের মোট তেলের প্রায় ১৩ শতাংশই ইরান থেকে আমদানি করা হতো এবং দেশ দুটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল।
তবে ২০১৮ সালে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসার পর ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই বাণিজ্য ব্যাপকভাবে কমে যায়। সূত্র: এনডিটিভি
