আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমার নামাজ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাস চলাকালীন এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইসরায়েলের সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে চালানো পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে এই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘আল মুনাসিক’ প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার কারণে ইসরায়েল এবং সমগ্র অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, তাই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সব পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে আল-আকসা মসজিদ ছাড়াও ওয়েস্টার্ন ওয়াল (আল-বোরাক দেয়াল), টেম্পল মাউন্ট এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার অন্তর্ভুক্ত। কোনো ধর্মাবলম্বী বা দর্শনার্থীকে আগামীকাল এসব এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদার ছাড়া অন্য সবাইকে ওল্ড সিটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পবিত্র স্থাপনাগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করেছেন আল-আকসার সিনিয়র ইমাম শেখ ইকরিমা সাবরি। তিনি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দখলদার কর্তৃপক্ষ যেকোনো অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

যদিও ইসরায়েল বর্তমান যুদ্ধকে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ দেখাচ্ছে, রমজান মাসের শুরু থেকেই আল-আকসায় নামাজ আদায়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। চলমান সংঘর্ষে ইতোমধ্যে দুই দেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছেন, আর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

একই সময়ে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি পরমাণু চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। ওমান জানিয়েছিল, তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আর কখনো মজুত না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে বর্তমানে সেই সম্ভাবনা ফিকে হয়ে গেছে।

জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশের অধিকার কেড়ে নেওয়ায় ওল্ড সিটির বাসিন্দারা এখন এক ধরনের অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জুমার নামাজ বাতিলের এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।