পাকিস্তানের হামলায় কাবুলে নিহত ৪০০, দাবি আফগানিস্তানের
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছে, এটি ‘মিথ্যা এবং জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।’ দেশটির দাবি, তারা কেবল কাবুল এবং নানগারহার প্রদেশে সামরিক স্থাপনাগুকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) রাত প্রায় ৯টার দিকে কাবুলের ওমর আসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে বিমান হামলা হয়। দুই হাজার শয্যার এই হাসপাতালের একটি বড় অংশ হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ফিতরাত বলেন, “দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪০০-তে পৌঁছেছে এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।” উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আগুন নেভাতে দমকলকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
এর আগে, হাসপাতালের ওপর হামলার কয়েক ঘণ্টা পূর্বে আফগান কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশের সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় আফগানিস্তানে অন্তত চারজন নিহত হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে।
আফগান সরকারের আরেক মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। তার ভাষায়, “এ ধরনের কাজ সব স্বীকৃত নীতির পরিপন্থী এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কাবুলে কোনো হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হামলাগুলো ছিল “নির্ভুল ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক”, যেখানে কাবুল ও নানগারহারে আফগান তালেবান এবং আফগানিস্তানভিত্তিক পাকিস্তানি যোদ্ধাদের সামরিক স্থাপনা, প্রযুক্তি সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে।
