পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যতম হুমকি : তুলসি
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ২২:০৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় পারমাণবিক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাদের মধ্যে পাকিস্তানও অন্যতম বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড।
বুধবার (১৮ মার্চ) মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির সামনে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে তুলসি গ্যাবার্ড বলেন, পাকিস্তান ছাড়াও ইরান, চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া সক্রিয়ভাবে পরমাণু ও প্রচলিত ওয়ারহেড বহনে সক্ষম নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম বলে সতর্ক করে দেন তিনি।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে গ্যাবার্ড বলেন, ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। তিনি বলেন, ‘‘রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান ও পাকিস্তান বিভিন্ন ধরনের উন্নত ও প্রথাগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন চালিয়ে যাচ্ছে; যা আমাদের মাতৃভূমিকে তাদের নাগালে নিয়ে এসেছে।’’
মার্কিন এই গোয়েন্দা প্রধান বলেন, পাকিস্তানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির তালিকায় সম্ভবত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে; যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন উদ্বেগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি পাকিস্তান। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা তুলসি গ্যাবার্ডের এমন দাবিকে প্রত্যখ্যান করেছেন।
এই মূল্যায়নের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষক শুজা নওয়াজ, প্রধান পারমাণবিক হুমকিগুলোর তালিকায় পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করাকে পূর্ববর্তী মার্কিন নীতির ধারার ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি বাইডেন প্রশাসনের সেই বিশ্লেষণেরই ধারাবাহিকতা, যা পাকিস্তানি সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এবং নতুন প্রযুক্তি অর্জন সীমিত করার চেষ্টা করেছিল।’
নওয়াজ যুক্তি দেন, অধিকাংশ প্রকাশ্য মূল্যায়নে পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘শাহীন-৩’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২,৮০০ কিলোমিটারেরও কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইসলামাবাদ বরাবরই বলে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ভারতকে প্রতিহত করা।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বা দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের অন্য কোনো দেশকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো কারণ পাকিস্তানের নেই। ফলে এ ধরনের মূল্যায়ন যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের বিকাশমান সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
আবা/এসআর/২৬
