আরও শক্ত অবস্থানে ইরান

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ২৩:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে তার শুরুতেই ইরানি জনগণ তাদের সর্বোচ্চ নেতাসহ বড় বড় কমান্ডারদের হারিয়েছে। তবে যুদ্ধের শুরুতে ইরান যতটা চাপে ছিল, এখন দেশটি কূটনৈতিক দরকষাকষিতে নিজেকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনায় যুক্ত আছে। তবে প্রকাশ্যে ইরানের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে তেলের দাম কমানোর উদ্দেশ্যে ছড়ানো ভুয়া খবর বলে বর্ণনা করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দুজন ঊর্ধ্বতন কূটনীতিক জানিয়েছেন, পর্দার আড়ালে গত কয়েক দিনে মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান দুপক্ষের মধ্যে যোগাযোগের একটি পরোক্ষ মাধ্যম স্থাপন করেছে। কূটনৈতিক সমাধানের এ সুযোগ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দিহান। কারণ, যুদ্ধরত পক্ষগুলোর অবস্থান এখনও অনেক দূরে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কী ধরনের ছাড় আদায় করা হবে, সে বিষয়ে ইরানের নেতাদের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোর দিয়ে বলছে, তাদের অবিরাম হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। পেন্টাগনের মতে, ইরানের ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিন্তু ইরান দেখিয়েছে, তারা চাইলে এখনও নির্ভুলভাবে গোলাবর্ষণ করতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে শত শত জাহাজ এখনও অচল হয়ে আছে। সমগ্র অঞ্চলজুড়ে ইরান প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে ‘যেমন কুকুর তেমন মুগুর’ নীতি গ্রহণ করেছে।

গত সপ্তাহেই ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার পরপরই ইরানি বাহিনী কাতারের প্রধান গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালায়, যা দেশটির রপ্তানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ নিশ্চিহ্ন করে দেয়। ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পর দুটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদ ও দিমোনায় আঘাত হানে। এতে ১৮০ জনেরও বেশি আহত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের লক্ষ্য এখন শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং এমন একটি যুদ্ধোত্তর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে।

ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বলেছেন, তারা ক্ষতিপূরণের অর্থ ফেরত চান। আর আক্রান্ত হবে না ইরান– এমন দৃঢ় নিশ্চয়তাও চান। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতের জন্য একটি নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো চান। ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি বলেন, তেহরান নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি, ক্ষতিপূরণ ও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের পাশাপাশি নিজেদের শর্তে যুদ্ধ শেষ করতে চাইবে।

 

আবা/এসআর/২৬